“আমরা গরু খাই না” বকরি ঈদে কেন্দ্রের কাছে বিশেষ আবেদন ফিরহাদ কন্যার

Published:

Priyadarshini Hakim

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্ষমতার পালাবদল হতেই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে বেশ কয়েক দশক পরে পুনরায় শহরে ঈদের নমাজ রেড রোড থেকে সরে ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হল। সেখানেই সকাল সকাল হাজির হয়েছিল প্রচুর মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। অন্যদিকে বকরি ঈদের আগে কার্যত ফাঁকাই থাকল উত্তরের বিভিন্ন গরু বিক্রির হাট। এমতাবস্থায় গোরু সংরক্ষণ (Cow Preservation) নিয়ে বড় বার্তা দিলেন ফিরহাদ কন্যা প্রিয়দর্শিনী (Priyadarshini Hakim)।

কী বলছেন ফিরহাদ কন্যা?

ফিরহাদ হাকিম কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিম এদিন এক সাক্ষাৎকারে জানান, “আমার পরিবার গরু এবং ছাগল কিছুই খায় না, যদিও এটা আমাদের নিজস্ব পছন্দ। কিন্তু আমি মনে করি সকলের একটা নিজস্ব পছন্দ থাকে যে সে কী পড়বে, কী খাবে, কী করবে, এটা কখনোই অন্য কেউ করবে না। কিন্তু যেই দেশে গরুকে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ নজরে রাখা হয়, সেখানে কেন্দ্রের উচিত গরুকে সংরক্ষণ করে রাখা, যাতে বাইরের দেশে গরুকে পাচার না করা হয়। আমাদের মুসলিম ভাই বোনেরা যদি গরু কুরবান করতে পারে এবং গরু না খায় তাহলে আমরা চাইব বিদেশীরাও যেন গরু না খায়। আমাদের সকলকে এই বিষয়ে একসঙ্গে আওয়াজ তোলা উচিত। ”

কমেছে গরু কেনাবেচা

কুরবানির পশু বিক্রি করা নিয়ে রাজ্য সরকারের নির্দেশিকায় পাল্টে গিয়েছে গোটা চিত্র। দক্ষিণ দিনাজপুরের পতিরাম, হরিরামপুর, ডাঙারহাট, উত্তর দিনাজপুর জেলার দুর্গাপুর হাট, রায়গঞ্জের কমলাবাড়ি হাট, হেমতাবাদ ব্লকের বাঙালবাড়ি হাট, ইসলামপুরের রামগঞ্জ হাট, গোয়ালপোখরের পাঞ্জিপাড়া হাট, ডালখোলার মল্লিকপুর হাট, চাকুলিয়ার জনতা হাট-সহ জেলার বিভিন্ন হাটে কিছু দিন ধরে গরু কেনাবেচা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কোথাও আবার গরু না পেয়ে বেড়েছে খাসির চাহিদা। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে সরকার পরিবর্তন হতেই অনেকেই বকরি ঈদে গরু কুরবানি দিতে চাইছে না। আর সেই নিয়েই এবার মতামত প্রেরণ করলেন প্রিয়দর্শিনী হাকিম।

আরও পড়ুন: বকরি ঈদে মায়াপুরে মুখ্যমন্ত্রী, ইসকন মন্দিরে গোমাতার পুজো করলেন শুভেন্দু

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই তৃণমূলের অন্তরে বিতর্কে শিরোনামে উঠে এসেছিল ফিরহাদ হাকিম কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিম। ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পরেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তাঁকে অন্ধ রাজা ধৃতরাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। শুধু তাই নয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘দুর্যোধন’-এর সঙ্গে তুলনা করে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে ভাইপোর প্রতি অতি বিশ্বাস, অহংকার এবং আইপ্যাক-নির্ভরতাই দলের তৃণমূল স্তরের কর্মীদের থেকে শীর্ষ নেতৃত্বকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। যদিও একা প্রিয়দর্শিনী নন, অনেকেই এই নিয়ে প্রতিবাদ করে চলেছেন।

google button