সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ক্ষমতায় আসার আগেই বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করা হবে এবং বর্ডারে বেড়া দেওয়ার জন্য ৪৫ দিনের মধ্যেই বিএসএফকে জমি প্রদান করা হবে। সেই কথা রেখেছে সরকার। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই বিএসএফকে জমি দেওয়ার ছাড়পত্র দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) দপ্তর। আর এবার কেন্দ্রের নির্দেশিকা মেনে আজ থেকেই পুশব্যাক আইন কার্যকর করা হল রাজ্যে।
আজ থেকেই বাংলাদেশীদের পুশব্যাক
আজ সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, অনুপ্রবেশকারীদের হঠাতে কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৫ সালের রাজ্যকে চিঠি দিয়েছিল। তবে সেই নির্দেশিকা মানেনি তৃণমূল। রমরমিয়ে চলে অনুপ্রবেশ। জাতীয় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আমাদের সরকার সেই আইন বলবৎ করল গোটা রাজ্যে। এবার থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ এবং অনুপ্রবেশ হলেই সরাসরি পুশব্যাক করা হবে। তাঁর আরও সংযোজন, এবার থেকে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশীদের সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেবে পুলিশ। তারপর নিয়ম মেনেই বিএসএফ ওপার বাংলার সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর হাতে তাদেরকে তুলে দেবে।
পাশাপাশি তিনি এদিন আরও বলেছেন যে, সিএএ-র আওতায় সাতটি কমিউনিটি বা ধর্মের লোকেরা অনুপ্রবেশের আওতায় আসবেন না। তবে যারা ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে এপার বাংলায় এসেছে, তাদেরকে পুলিশ কোনও ভাবে আটকাতে পারবে না বা হেনস্তাও করতে পারবে না। তবে সিএএ-র আওতায় যারা নেই তাঁরা সম্পূর্ণ অবৈধ। তাদেরকে পুলিশ আটক করে বিএসএফের হাতে তুলে দেবে আর পুশব্যাক করা হবে। আজ থেকেই গোটা রাজ্য জুড়ে এই আইন কার্যকর করা হল।
আরও পড়ুন: গরু খাব না, পোল্ট্রি-খাসি দিয়েই চালাব! বেলডাঙা পশুর হাটের ভিডিও ভাইরাল
কিন্তু এক্ষেত্রে একটি ‘কিন্তু’ রয়ে গিয়েছে। কারণ, বাংলাদেশ থেকে আসা মতুয়া জনগোষ্ঠীরা দুশ্চিন্তায় ভুগছে যে হয়তো তাদেরকেও বাংলা থেকে চলে যেতে হবে! তবে মুখ্যমন্ত্রী সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে স্পষ্ট বলেছেন যে, সিএএ-র আওতায় কোনও হিন্দু ধর্মাবলম্বী বা বাংলাদেশী, পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা যে কোনও দেশ থেকে আগত নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের এ দেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে না। তারা ভারতীয় নাগরিকত্ব পাবেন। শুধুমাত্র যারা অবৈধভাবে এসেছেন তাদেরকেই পুশব্যাক করা হবে।










