প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: গভীর রাতে পথচারীকে ধাক্কা মেরে আটক হলেন সল্টলেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে অভিযুক্ত বিডিও প্রশান্ত বর্মণ (Prasanta Barman Arrested)। ঘটনাটি ঘটেছে নিউটাউন (Newtown) এলাকায়। অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন ওই পথচারী। জানা গিয়েছে, গতকাল রাতেই প্রশান্তকে আটক করেছে ইকো পার্ক থানার পুলিশ (Eco Park Police)। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে অভব্য আচরণ ও বচসায় জড়ানোয় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
ভাইরাল ভিডিও
ভাইরাল একটি ভিডিও সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল, রাতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন। সেই সময় এক পথচারীকে ধাক্কা মারেন তিনি। তারপরই ওই পথচারী ছিটকে এসে তাঁর স্কুটারের উপর গিয়ে পড়েন। পায়ে গুরুতর চোট পান ওই পথচারী। এদিকে ধাক্কা দেওয়ার পর পালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। সেই সময় স্থানীয় কিছু মানুষ তাঁকে আটকে দেন এবং পুলিশকে খবর দেন। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি India Hood। এদিকে যে ব্যক্তি ভিডিও করছিলেন, তাঁকে প্রশান্ত বর্মন থামাতেও যান। এমনকি ভিডিও বন্ধও করতে বলেন। হুমকি দিতেও শোনা যায়।
মদ খেয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে নিউটাউনে গ্রেফতার হল ফেল করা BDO প্রশান্ত বর্মন।। pic.twitter.com/ARIc3ctlM0
— Tarunjyoti Tewari (@tjt4002) May 25, 2026
গ্রেফতার বিডিও প্রশান্ত বর্মণ
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিধাননগর ইকো পার্ক থানার পুলিশ। এরপর তাঁকে আটক করে নিউটাউন থানায় নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতারির পরেও আঙুল উঁচিয়ে পুলিশকে শাসানি দিতে দেখা যায় রাজগঞ্জের সাসপেন্ডেড বিডিও প্রশান্ত বর্মন। যদিও পুলিশের তরফে কোনও বিবৃতি দিতে দেখা যায়নি। উল্লেখ্য, পুলিশের খাতায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি ‘পলাতক’ হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন তিনি। গত বছর অক্টোবর মাসে সল্টলেকের দত্তাবাদের বাসিন্দা তথা সোনা ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার খুনের ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল রাজগঞ্জের এই অপসারিত BDO প্রশান্ত বর্মনের। যদিও তাঁর দাবি ছিল তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতেই তাঁকে বিডিও পদ থেকে সরানো হয়েছিল। যদিও এরপর থেকে তিনি পুলিশের খাতায় পলাতকই ছিলেন।
আরও পড়ুন: সকাল সকাল ধাক্কা, ফের দাম বাড়ল CNG-র
প্রথমে বারাসত ও বিধাননগর আদালত থেকে খুনের ঘটনায় প্রশান্ত বর্মন আগাম জামিন পেলেও, সেই জামিনের বিরোধিতা করে হাইকোর্টে গিয়েছিল বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। হাইকোর্ট আগাম জামিন খারিজ করে ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই সময় পেরিয়ে গেলেও আত্মসমর্পণ করেননি BDO। হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রশান্ত বর্মন। সেখানেও তাঁকে ২৩ জানুয়ারির মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও তিনি আদালতে হাজির হননি। পুলিশও তাঁর খোঁজ পায়নি। তখন চার্জশিটে তাঁকে ‘পলাতক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।










