প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বাংলার বাড়ি প্রকল্পে (Banglar Bari Housing Scheme) অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম উঠে আসার অভিযোগে এবার রাজ্যজুড়ে শুরু হতে চলেছে পুনরায় যাচাই প্রক্রিয়া (Reverification)। গতকাল, সোমবার এই নিয়ে নির্দেশিকা জারি করেছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর (Government Of West Bengal)। বিজেপি বাংলার প্রশাসনিক ক্ষমতা কায়েম করতেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েই চলেছে। রাতারাতি একাধিক নিয়ম নির্দেশ জারি করা হচ্ছে। আর এবার চর্চায় উঠে এল ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প।
‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে যাচাই অভিযান
পূর্বতন, তৃণমূল সরকারের জমানায় ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠে এসেছিল। অনেকেই অভিযোগ জানিয়েছিল যে বহু অযোগ্য ব্যক্তি নাকি শাসকদলের মদতে অনৈতিক ভাবে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছিলেন। অর্থাৎ যাঁরা এই প্রকল্পের যোগ্যই নন, তাঁরা ভরপুর এই প্রকল্পের একের পর এক সুবিধা নিয়েই চলেছে। সেক্ষেত্রে বঞ্চিত হচ্ছেন বাকিরা। তাই এবার সেই নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে নতুন সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। গতকাল, সোমবার সমস্ত জেলাশাসককে নির্দেশিকার মাধ্যমে জানানো হয়েছে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই করতে হবে।
কেন এই পদক্ষেপ?
পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ‘বাংলার বাড়ি চালুর পর থেকেই সাধারণ মানুষ, সংবাদমাধ্যম-সহ বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছিল যে বহু অযোগ্য ব্যক্তিকে এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এমনকি তদন্তেও সেই অভিযোগের সত্যতাও প্রমাণিত হয়েছে। তাই এই পরিস্থিতিতে যাতে কেউ অন্যায্য ভাবে প্রকল্পের সুবিধা নিতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে চাইছে রাজ্য সরকার। এবং পুনরায় সব নাম-পরিচয় নতুন ভাবে যাচাই করে দেখার কোথাও জানানো হয়েছে। এবং আগামী ৩০ মে-র মধ্যে পুরো কাজ শেষ করতে হবে। যদি কোনো অযোগ্য ব্যক্তি ধরা পড়ে তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: খুনের মামলায় অভিযুক্ত, ছিলেন পলাতক, এক ভুলেই গ্রেফতার বিডিও প্রশান্ত বর্মণ
সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ২০২৬ সালের SIR-এর ASDD তালিকাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া যায়। এদিকে যাচাইকরণের পুরো কাজ সম্পূর্ণ করতে বিশেষ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন মডিউল তৈরি করেছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই সেই অ্যাপ কী ভাবে কাজ করবে তা নিয়ে অতিরিক্ত জেলাশাসক, ডিএনও এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকও করেছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। আশা করা যাচ্ছে কিছুদিনের মধ্যেই প্রশাসনিক কর্মী ও আধিকারিকরা যাচাইয়ের কাজ শুরু করবেন।










