অনন্যা সরকার, পূর্ব মেদিনীপুর: দিঘা (Digha) বাঙালিদের অন্যতম পিছনের পর্যটন কেন্দ্র। ছুটিছাটায় বা সপ্তাহান্তে ব্যাগ গুছিয়ে অনেকেই বেরিয়ে পড়েন সৈকত শহরের উদ্দেশ্যে। সমুদ্রের পাড়ে হু হু করে বয়ে সমুদ্রের ঠান্ডা বাতাস ও ঢেউয়ের আছড়ে পড়া দেখতে দেখতেই অনেকটা সময় কেটে যায়। তাছাড়া সমুদ্র স্নানের মজাই আলাদা। বেড়াতে গেলে দেখতে পাবেন দিঘা সৈকতের পাড়ে ছড়িয়ে থাকে অজস্র পাথর। এর ওপর দিয়ে নির্দ্বিধায় হেঁটে সমুদ্রে নামেন অনেকেই। কিন্তু জানেন কি এই পাথরের মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে সাক্ষাত মৃত্যু। সম্প্রতি দিঘায় বেড়াতে গিয়ে এমনই এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছেন কিছু পর্যটক। কী ঘটনা ঘটেছে, চলুন বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
সাগরপাড়ে পাথরের খাঁজে লুকিয়ে বিষধর চন্দ্রবোড়া সাপ
এক পর্যটক সম্প্রতি দিঘা বেড়াতে গিয়ে এক ভয় ধরানো ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন। তিনি ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেন। ভিডিওতে তিনি দেখিয়েছেন যে, একটি বিশালকার সাপ দিঘার সমুদ্রসৈকতের পাথরের মধ্যে লুকিয়ে ছিল। তিনি ভিডিওতে সাপটি বিষাক্ত চন্দ্রবোড়া (Russell’s vipers) বলে দাবি করেন।
ভিডিওতে দেখা যায় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলের কর্মীরা সাপটিকে যথাযথভাবে নিরাপদে পাথরের খাঁজ থেকে উদ্ধার করে আনছেন। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই সমুদ্রপাড়ে বেড়াতে আসা পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। সমুদ্রের পাড়ের পাথরের মধ্যেও যে সাপ লুকিয়ে থাকতে পারে, এটা অনেকেই কল্পনাও করেননি। বহু মানুষ ওই পাথরের ওপর দিয়ে নির্দ্বিধায় চলাচল করেন, কখনও ভাবেন না এর নীচে লুকিয়ে থাকতে পারে কোনও বিষধর সাপ।
আরও পড়ুন: নেই কোনও সিকিউরিটি, নির্দ্ধিধায় মেলায় পুতুল বিক্রি করছেন সাঁইথিয়ার বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা
চন্দ্রবোড়া অত্যন্ত বিষধর একটি সাপ। এর বিষে প্রাণীদের শরীরের লোহিত কণিকা ধ্বংস হয়ে যেতে থাকে। সঠিক সময়ে অ্যান্টি ভেনম না নিলে মৃত্যুও ঘটতে পারে। এরা সাধারণত ঝোপঝাড় বা পাথরের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পছন্দ করে। প্রসঙ্গত, এর আগে দিঘা সমুদ্র সৈকতে বিষধর হলুদ পেটের সামুদ্রিক সাপ বা ‘ইয়েলো-বেলিড সি স্নেক’ দেখা গিয়েছিল, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।










