‘কত টাকায় বিক্রি হলেন?’ বারুইপুরে সায়নীকে ঘিরে ‘বেইমান’ স্লোগান

Published:

Saayoni Ghosh

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: প্রায় ৭২ ঘণ্টা পর অবশেষে বারুইপুরের গণধর্ষণ-খুনের (Baruipur Minor Rape Case) ঘটনায় নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন সাংসদ সায়নী ঘোষ (Saayoni Ghosh)। মঙ্গলবার সকালে সায়নী ঘোষের পাশাপাশি কাকলি ঘোষ দস্তিদার, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শিউলি সাহা দেখা করতে চায় পরিবারের সঙ্গে। কিন্তু পুলিশের বাঁধার মুখে পড়লে শেষমেশ এলাকার সাংসদ হিসেবে শুধুমাত্র সায়নীকে প্রবেশের অনুমতি দেয় পুলিশ। কিন্তু স্থানীয়দের বিক্ষোভের মধ্যে পড়তে হয় তাঁকে। শুনতে হয় ‘বেইমান’, ‘গদ্দার’ কটাক্ষ।

সায়নীকে কটাক্ষ স্থানীয়দের

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ, মঙ্গলবার সকালে নিহত নাবালিকার বাড়িতে পৌঁছন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। তার সঙ্গেই সেখানে উপস্থিত হন ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূলের তরফে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শিউলি সাহারা। পুলিশ প্রথমে সায়নীদের বাধা দিলেও পরে ওই পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেয়। কিন্তু সেখানে নিহত নির্যাতিতার পরিবার এবং প্রতিবেশীদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় সায়নীকে। এলাকার সাংসদ কেন এত দেরিতে আসবেন, এই নিয়ে বিক্ষোভ দেখান কিছু মানুষ। ওঠে বেইমান স্লোগান।

কী বলছেন সায়নী?

স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়ে অনেককেই বলতে শোনা যায়, “দিল্লির কাছে কত টাকায় বিক্রি হলেন?” যদিও কোনোরকমে বিক্ষোভের মধ্যে দিয়ে সায়নী বেরিয়ে যান। এদিন সাংবাদিকদের সামনে স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে দোষীদের শাস্তি হওয়া নিয়ে সায়নী বলেন, “আমার প্রতি যদি কোনও অভিমান থাকে, ১০০ বার বলতে পারেন। এক মিনিটের জন্য যেমন আটকাবেন, তেমন ভাবে আধ ঘণ্টার জন্য ভিতরে ঢুকিয়ে কথাও বলব। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। জড়িতরা অ্যারেস্ট হচ্ছে। যারা বাইরে আছে, তাদেরও ধরতে হবে। এদের মূল থেকে উৎখাত করতে হবে।”

আরও পড়ুন: একই পরিবারের ১৫ জন নিচ্ছেন প্রতিবন্ধী ভাতা! মুর্শিদাবাদের তৃণমূলের নেতার কেচ্ছা ফাঁস

সায়নীর পাশাপাশি বাইরে অপেক্ষারত সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশেই তাঁরা বারুইপুরে এসেছেন। এমন নৃশংস অপরাধের ঘটনায় গোটা রাজ্য স্তম্ভিত। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসন ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছে। আমারই মেয়ের সঙ্গে ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। এর কড়া নিন্দা এবং দোষীদের কঠোরতম শাস্তি চাই। আমরা পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। সবরকমভাবে পাশে থাকব বলে আশ্বস্ত করেছি তাঁদের।”