জমায়েত করতে গিয়েও পিছু হটলেন সিদ্দিকুল্লা, এয়ারপোর্ট এলাকায় জারি ১৬৩ ধারা

Published:

Kolkata Airport

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: কলকাতা বিমানবন্দর (Kolkata Airport) থেকে বিতর্কিত বাঁকড়া মসজিদ তুলে দেওয়া হবে, এ কথা আগেই জানিয়েছিল রাজ্য সরকার। কয়েকদিন আগেই এই মসজিদে প্রবেশের রাস্তা এবং নামাজ পাঠ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হয়। তবে সেই ঘটনার প্রতিবাদেই এই মসজিদ চত্বরে জমায়েতের ডাক দিয়েছিলেন তৃণমূলের নেতা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী (Siddiqullah Chowdhury)। সেই খবর পেতেই আজ বাঁকড়া এলাকায় তৎপর হয় রাজ্য পুলিশ। সকাল থেকেই জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা। এমনকি বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে সেই কর্মসূচি হঠাৎ করে বাতিল করেন সিদ্দিকুল্লা।

প্রতিবাদ কর্মসূচি বাতিল করলেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী

বিমানবন্দরের এই মসজিদ নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। দ্বিতীয় রানওয়ের উপর অবস্থিত এই মসজিদের কারণে এতদিন বিমান ওঠানামায় বিভিন্ন রকম সমস্যা তৈরি হত। কিন্তু রাজ্যের পালাবদল হতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন যে, সরকার কাউকে ধর্ম পালনে বাধা দিচ্ছে না। কিন্তু জাতীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রে এবং বিমানবন্দরে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সেই কারণে গত সপ্তাহে এই মসজিদে নামাজ পাঠ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে এতে প্রতিবাদ করেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী, এবং আজ সকাল ১১ টায় ৭ নম্বর গেটে জমায়েতের ডাক দিয়েছিলেন তিনি।

তবে এই এলাকায় যাতে কোনও রকম অশান্তি না হয় তার জন্য আগেভাগেই তৎপর হয় পুলিশ বাহিনী। এমনকি বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের তরফ থেকে আরও ২৫০ জন পুলিশ কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে বাঁকড়া মোড় এলাকায়। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, সকাল থেকেই ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। এছাড়া চারজনের বেশি জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা করা হয়েছে, এবং পুলিশ মাইকিং করে অনবরত প্রচার করছে। পাশাপাশি দমকলের ইঞ্জিনও তৎপর রয়েছে ওই এলাকায়।

আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা না পেলেও নো টেনশন! বিরাট আপডেট দিল রাজ্য সরকার

কিন্তু এদিন আচমকাই জমায়েত থেকে পিছু হটেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। আজ বেলা বারোটার সময় বাঁকড়া মোড় এলাকায় পৌঁছন তিনি। সঙ্গে কয়েকজন সমর্থক ছিল। তবে পুলিশের সঙ্গে কথা বলে সিদ্দিকুল্লা জানান যে, তাদের কর্মসূচি বাতিল হয়েছে। আজ কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচি হবে না। এমনকি তারা নামাজ পাঠ করতে পারবে কিনা তা জিজ্ঞাসা করে পুলিশকে। কিন্তু পুলিশ স্পষ্ট জানাত যে জমায়েতের কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি। অন্য জায়গায় নামাজ পড়তে হবে। যদিও এখনও পর্যন্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে ওই এলাকায়। অশান্তি এড়াতে তৎপর কেন্দ্র ও রাজ্য পুলিশ।