“সবটাই…!” মমতা-ইউসুফ ইস্যুতে মুখ খুললেন সৌরভ গাঙ্গুলি

Published:

Sourav Ganguly

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বর্তমানে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে জোরালোভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে যে, তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) লোকসভায় যোগদান করতে বহরমপুর আসনটি খালি করার জন্য সৌরভের মাধ্যমে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ইউসুফ পাঠানকে (Yusuf Pathan)। এবং তাতে নাকি সম্মতি জানাননি ইউসুফকে। আর সেই নিয়ে শোরগোল শুরু হতেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly) প্রকাশ্যে নিয়ে আনলেন আসল সত্য। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য নাকি তিনি ইউসুফ পাঠানকে তাঁর লোকসভা আসন ছেড়ে দিতে বলেননি।

কী বলছেন সৌরভ?

আজ এক বিবৃতিতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় লিখেছেন যে, “গত ৪ জুন ২০২৬ তারিখে এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, আমি নাকি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের বর্তমান সাংসদ ইউসুফ পাঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এবং আরও বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা পৌঁছে দিয়ে তাঁকে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি, যাতে ওই কেন্দ্রে উপনির্বাচনে তিনি প্রার্থী হতে পারেন। কিন্তু আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অসত্য। সংবাদমাধ্যমের কাছে আমার আবেদন, কোনও গুজব বা জল্পনার ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হোক।”

বহরমপুর আসন নিয়ে ইউসুফ চর্চা

উল্লেখ্য, কিছুদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্কে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের নাম বারবার সামনে উঠে আসছে। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর নাকি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে সংসদে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। আর সেক্ষেত্রে নজরে রাখা হয়েছিল বহরমপুর লোকসভা আসনকে। এদিকে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে জয় লাভ করে সেখানকার সাংসদ হয়েছিলেন ইউসুফ পাঠান। তাই স্বাভাবিকভাবেই সেখানে উপনির্বাচন হলে তাঁকে সেই পদত্যাগ করতে হবে। আর সেই কারণে নাকি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মাধ্যমে তাঁর কাছে এই পদত্যাগের বার্তা পাঠানো হয়েছিল। তবে সেটি যে আদতে পুরোটাই গুজব, সেটাই প্রমাণিত হল।

আরও পড়ুন: ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ চুঁচুড়ার প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে! ১৪ দিনের জেল হেফাজত অসিতের

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা কাটছাঁট করে দিয়েছিল নতুন রাজ্য সরকার। ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত ‘ওয়াই ক্যাটেগরি’র নিরাপত্তাই পেতেন সৌরভ। এছাড়াও সৌরভের বাড়িতে মোতায়েন থাকতেন আরও বেশ কয়েক জন পুলিশকর্মী। এর পর সৌরভের নিরাপত্তা বাড়িয়ে জেড ক্যাটেগরি করে দিয়েছিল মমতা সরকার। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই অনেক তৃণমূল নেতা, প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিকদের নিরাপত্তায় কাটছাঁট করে দেয় শুভেন্দুর সরকার। আর সেই তালিকায় নাম উঠেছিল সৌরভের। তাই বর্তমানে তাঁর নিরাপত্তা দু’ধাপ নামিয়ে ‘ওয়াই ক্যাটেগরি’ করে দেওয়া হয়েছে।