তারাতলা কাণ্ডে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, মৃতদের পরিবারকে দেওয়া হবে ১০ লক্ষ

Published:

Suvendu Adhikari

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সময় যত এগোচ্ছে, তারাতলা ঘটনায় (Taratala Godown Collapse)  ক্রমেই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। পাঁচতলা গোডাউনের ছাদ ভেঙে পড়ে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের এবং উদ্ধার করা হয়েছে ২৯ জনকে। আর এবার এই ঘটনায় রাজ্য সরকারের তরফে পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হল। জানা গিয়েছে, আজ, মৃতদের পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের পরিবারপিছু ১ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ।

তারাতলার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ কেন্দ্র এবং রাজ্যের

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ, বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) কলকাতার তারাতলা এলাকায় নির্মাণাধীন গুদামঘর ধসে পড়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনা নিয়ে শোকপ্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়েছে। মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার করছি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। কখনোই অর্থ দিয়ে মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হয় না। আর সেটা স্বীকার করেই দায়িত্বশীল সরকার তার দায়িত্ব পালনের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ।’ এরপরই মৃতদের পরিবারকে দশ লক্ষ করে এবং আহতদের এক লক্ষ করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও এ দিনই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের তরফেও মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা করে আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

কী জানালেন মুখ্যমন্ত্রী?

বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরও বলেন, “গতকাল, ঘটনার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছিল। প্রথমে কলকাতা পুলিশ, দমকল ও স্থানীয় মানুষ হাত লাগালেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামানো হয় সেনা এবং এনডিআরএফ (NDRF)-কে। রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী সারা রাত দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং এখনও সেখানে উদ্ধার অভিযান জারি রয়েছে। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করে নবান্নে ফিরে আসি। হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে কথা বলেছি। মুখ্যসচিব, পুর কমিশনার-সহ পদস্থ কর্তারা ভোর ৩টে পর্যন্ত স্পটে ছিলেন। এখনও পর্যন্ত মোট ২৯ জনকে উদ্ধার, ৯ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।”

ফিরহাদ হাকিমকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর

তারাতলায় এই ভয়ংকর ঘটনায় পূর্বতন সরকারের দিকে নিশানা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, “সিটি অফ জয়কে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করে রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এটা ওদেরই পাপের ফল। অর্থের বিনিময়ে, কাটমানির বিনিময়ে যত বিল্ডিং প্ল্যান তৃণমূলের সরকার অনুমোদন দিয়েছে সব অডিট না করে কোন‌ও বিল্ডিং এর কাজ এই সরকার করতে দেবে না। আর যারা দোষী তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে, জেলও খাটানো হবে।” গোটা ঘটনা নিয়ে সরাসরি কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দিকেই আঙুল তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ভরা বিধানসভায় নথি দেখিয়ে তাঁর দাবি, জানুয়ারি মাসে এই বিল্ডিংয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, তাতে প্রাক্তন মেয়রের সই রয়েছে!

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে ঢুকে পড়ল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান, সতর্কতা আসতেই যা করলেন পাইলট

শুরু থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন যে দুর্নীতি নিয়ে একেবারে জিরো টলারেন্স নিচ্ছে বিজেপি সরকার। এবার সেই কথা মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সব বিল্ডিং প্ল্যান অডিট করানো হবে। এমনকি আগামী চার সপ্তাহ কলকাতা পুরসভা, রাজারহাট নিউটাউন, মহেশতলা, বজবজ, পুজালি, সোনারপুর, বারুইপুর পুর এলাকায় সমস্ত নির্মীয়মান বিল্ডিং এর কাজ বন্ধ রাখা হচ্ছে। আর তারতলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই রাজেশ পাণ্ডের নেতৃত্বে কমিটি তৈরি করা হচ্ছে। এই কমিটিতে থাকবেন স্মিতা পাণ্ডে, রচনা ভগত, রাজেশ সিনহা, খলিল আহমেদ, আইআইটি, পূর্ত দফতর চিফ ইঞ্জিনিয়ার, ডিজি বিল্ডিং।