BSF-কে ১৪২ একর জমি দিল রাজ্য সরকার, কোন জেলায় কত? তথ্য দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

Published:

Suvendu Adhikari

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্ষমতার পালাবদল হতেই বিজেপি একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে। এবার সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে আউটপোস্ট নির্মাণ এবং কাঁটাতারের বেড়া তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই মোট ১৪২.৭৯ একর জমি BSF-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কোন জেলায় কত জমি BSF-কে ইতিমধ্যেই হস্তান্তর (Land Transfer) করা হয়েছে সেই খবর নিজেই এক্স হ্যান্ডেলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।

১৪২.৭৯ একর জমি হস্তান্তর BSF-কে

গতকাল, বুধবার, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানিয়েছিলেন যে, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাড়াতে রাজ্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। বিএসএফ আউটপোস্ট ও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য অতিরিক্ত জমি হস্তান্তরের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ইতিমধ্যেই মোট ১৪২.৭৯ একর জমি BSF-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই ৪৫ দিনের মধ্যে ৬০০ একর জমি BSF -এর হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল, এবার সেই লক্ষ্য পূরণ খুব শীঘ্রই হতে চলেছে।” এদিন তিনি জেলাভিত্তিক জমি হস্তান্তরের হিসাবও তুলে ধরেছিলেন।

কোন জেলায় কত জমি হস্তান্তর?

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে, সবচেয়ে বেশি জমি হস্তান্তর করা হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। সেখানে ৩৮.৮০৫ একর জমি দেওয়া হয়েছে BSF কে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জলপাইগুড়ি। সেখান থেকে ৩৫.১৬৫ একর জমি হস্তান্তর হয়েছে। সীমান্তের সুরক্ষায় কোচবিহারে হস্তান্তরিত জমির পরিমাণ ২২.৯৫ একর। দক্ষিণ দিনাজপুরে ২০.১৭০১ একর জমি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ১০.৯০ একর জমি BSF-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে মালদা জেলায়। দার্জিলিং থেকে দেওয়া হয়েছে ৮.৮১৫ একর জমি। এছাড়াও উত্তর দিনাজপুরে ২.৮৪ একর, উত্তর ২৪ পরগনায় ২.৬ একর এবং নদিয়ায় ০.৫৫ একর জমি BSF-কে হস্তান্তর করার কথা জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা ভান্ডারের কাজে না শিক্ষকদের! সরকারের কাছে চিঠি, তাহলে কীভাবে হবে ফর্ম পূরণ?

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়ে আসছিল। আসলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অনেকের আপত্তির কারণে জমি অধিগ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নবান্ন জেলা প্রশাসনগুলিকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যাতে সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে দ্রুত জমি চিহ্নিত করে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। রাজ্য সরকারের দাবি, সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ, পাচার ও অন্যান্য বেআইনি কার্যকলাপ রুখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।