প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভুটানে আচমকা হিমবাহের হ্রদ (Bhutan Glacial Lake Burst) ভেঙে বিপুল জলরাশি নেমে আসায় সংলগ্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ংকর যে ভুটানের গাসা জেলার বিখ্যাত ও জনপ্রিয় প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণ এলাকা জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। বিশাল আকারের পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষে পাহাড়ি রাস্তাঘাট ঢেকে যাওয়ায় পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে পড়েছে যান চলাচল। এমতাবস্থায় রাজ্যের উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে বড় আপডেট দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত ভুটান
গতকাল, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উত্তর-পশ্চিম ভুটানের গাসা জেলার একটি হিমবাহ ধসে ভেঙে যায় শিন্তাফু হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ। রাতের অন্ধকারে হড়পা বানে ধ্বংস হয়ে যায় নিকটবর্তী গাসা তশাচুর অঞ্চলের বহু ইমারত। অন্যদিকে গ্লেসিয়ার লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড বা হিমবাহ হ্রদ ভেঙে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাতেই ভুটানের মো চু নদীতে আচমকা হড়পা বান আসে। তার জেরে পুনাখা জেলার গুমা গেওগের অন্তর্গত দোছুখা-জোমলিংথাং-রিৎসা এলাকায় সৌরচালিত জল উত্তোলন ও সেচ প্রকল্পটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবার রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
কী বলছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী?
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ, শুক্রবার সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রীর দরবার শুরু হওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সেখানেই ভুটান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “ভোর চারটে পর্যন্ত পুলিশ সুপার, মন্ত্রী, বিধায়কেরা কাজ করেছেন। নবান্ন কন্ট্রোলরুমের সঙ্গেও যোগাযোগও ছিল। সংকোশ নদী বিপদসীমার নিচে বইছে। নিখোঁজ হওয়ার যে খবর পাওয়া গিয়েছিল তাও নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। সকলের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। ৪৭ জন নিরাপদেই রয়েছেন। আতঙ্কিত হবেন না, সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে।” পরিস্থিতির ওপর প্রশাসন সতর্ক দৃষ্টি রাখছে বলেও জানান তিনি।
#WATCH | Kolkata: On the current situation in Alipurduar and Cooch Behar following the glacial lake burst in Bhutan, West Bengal CM Suvendu Adhikari says, “Everything is completely normal. Throughout the night, until 4:00 AM, the SP, ministers, MLAs, and the DM were all on-site,… pic.twitter.com/bWSEAFHveN
— ANI (@ANI) October 30, 2026
আরও পড়ুন: ভুটানে শিনটাফু হ্রদ ভেঙে বিপুল জলস্রোত, বিপদে উত্তরবঙ্গ! মোতায়েন NDRF
স্থানীয়দের নিরাপদ জায়গায় সরানো হয়েছে
আশঙ্কা করা হয়েছিল ভুটানের এই ভয়ংকর পরিস্থিতির জেরে অসম ও পশ্চিমবঙ্গের একাংশ বন্যা কবলিত হবে। পরিস্থিতি আন্দাজ করে বাংলা ও অসম প্রশাসনকে সতর্ক করে ভুটান সরকার। এরপরই রেড অ্যালার্ট জারি করা হয় আলিপুরদুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায়। স্থানীয় বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এবং নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলিতে অনবরত সাইরেন বাজিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কমপক্ষে ১২ হাজার স্থানীয় বাসিন্দাকে তড়িঘড়ি নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের জন্য পানীয় জল, খাবারের বন্দোবস্তও করা হয়েছে। তবে কোনও বড় বিপদ ঘটেনি। সকলেই নিরাপদে রয়েছেন বলেই খবর।
জলপাইগুড়ির নাগরাকাটা, বানারহাট-সহ বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়। আপাতত জেলায় বড় কোনও বিপর্যয়ের খবর নেই। তবে পাহাড়ে বৃষ্টি বাড়লে নদীগুলির জলস্তর দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেদিকে নজর রেখেছে প্রশাসন। তবে সঠিক সময়ে সতর্কতার ফলে বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার। আপাতত দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। সকলেই নিরাপদে রয়েছেন বলেই জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।










