প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নেপালের হড়পা বানের পর এবার আশঙ্কার মেঘ ঘনিয়ে আসছে ভুটানে। হিমবাহ হ্রদ ভেঙে ভয়াবহ বন্যার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভুটানে। বিপদের মধ্যে রয়েছে উত্তরবঙ্গ (North Bengal Flood Alert)। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার, সন্ধ্যায় ভুটানের ওয়াকিলা পর্বতের নীচে অবস্থিত শিনটাফু হিমবাহ হ্রদ থেকে আচমকাই বিপুল পরিমাণ জল (Bhutan Glacial Lake Burst) বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে জলসম্পদ উন্নয়ন দফতর ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের তরফেও। মাইকিং করা হচ্ছে দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে।
ভুটানের শিনটাফু হ্রদ ফেটে গিয়েছে
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভুটানের গাসা জেলার লায়া গেউগের লুঙ্গোতে ওয়াকিলা পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত শিনতাফু হ্রদটি হঠাৎ ফেটে যায়। সঙ্গে সঙ্গে প্রায় ৭৪ লক্ষ ঘনমিটার জল এই হ্রদ থেকে তীব্র গতিতে নেমে আসতে শুরু করে। তীব্র জলের তোড়ে লায়া অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জংখাগ সড়কের একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ ধসে গিয়েছে। এর ফলে শুধু ভুটানে নয় ক্ষতি হবে আসাম এবং বাংলার ভুটান লাগোয়া সীমান্ত এলাকায়। প্রশাসনের কাছে এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রেড অ্যালার্ট জারি আলিপুরদুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায়। স্থানীয় বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এবং নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলিতে অনবরত সাইরেন বাজিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সতর্কবার্তা দিলীপের
পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এদিন ফেসবুকে পোস্ট করে লিখেছেন যে, “ভুটানের লেমথাং-এ হিমবাহ পুষ্ট হ্রদ ভেঙেছে যার জেরে ভুটানের জলের ভয়াবহ স্রোত মোফু নদী হয়ে সুনকোশ নদীর দিকে নেমে এসেছে। সতর্কতা জারি দার্জিলিং পাহাড়, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে। সংকোষ নদী তীরবর্তী তুফানগঞ্জ ও বক্সিরহাট এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে NDRF ও SDRF দল। সতর্ক করা হচ্ছে বাসিন্দাদের। কেউ ঘাবড়াবেন না, সোনার বাংলার সরকার আপনাদের পাশে আছে।” ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক এলাকা।
West Bengal Minister Dilip Ghosh posts on Facebook, “A glacial lake has burst in Lemthang, Bhutan, triggering a massive flow of water through Bhutan towards the Sankosh River via the Mofur River. Alerts have been issued for the Darjeeling hills, Alipurduar and Jalpaiguri. NDRF… pic.twitter.com/fl2Go7Fl3Q
— IANS (@ians_india) October 29, 2026
আরও পড়ুন: চিনের শত্রু তাইওয়ানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিল পাকিস্তান
গতকাল, পশ্চিমবঙ্গের বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ তাঁর ফেসবুকে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, আগামী এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে কুমারগ্রাম এলাকায় সঙ্কোশ নদীতে জলের প্রবল স্রোত এসে পৌঁছতে পারে। সম্ভাব্য বিপদের কথা মাথায় রেখে বাসিন্দাদের আগাম নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আবেদন জানাচ্ছি। পাশাপাশি, প্রশাসনকে সহযোগিতা করারও অনুরোধ করছি।”
মোতায়েন করা হয়েছে NDRF
ভুটানের সম্ভাব্য বিপজ্জনক ১৭টি হিমবাহ হ্রদের মধ্যে অন্যতম শিনতাফু হ্রদ। ন্যাশনাল সেন্টার ফর হাইড্রোলজি অ্যান্ড মেটিওরোলজি-এর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, তাকতসিমাখাংয়ে জলস্তর পর্যবেক্ষণের একটি কেন্দ্র রয়েছে। তবে প্রাথমিক খবর পাওয়ার সময় সেখানে কোনও সতর্কবার্তা জারি হয়নি। সবথেকে বড় সমস্যার বিষয় হল, হ্রদ থেকে ঠিক কতটা জল বেরিয়েছে এবং তার প্রভাবে নীচের দিকের এলাকায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাই সকলেই বেশ আতঙ্কিত। ইতিমধ্যেই অসম সীমান্তের কাছে সঙ্কোশ নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দল।










