সহেলি মিত্র, কলকাতা: বাংলার আকাশ বাতাস জানান দিচ্ছে শীত আসন্ন। আর এই সময়ে বাড়িতে বসে থেকে মন খারাপ করার চেয়ে দু’দিনের জন্য কোথাও ঘুরে এলে কেমন হয়। আপনিও কি প্রকৃতি ভালোবাসেন? একটু অফবিট জায়গা খুঁজছেন যেখানে নিরিবিলিতে সুন্দর একটা পরিবেশের মধ্যে কয়েকটা দিন কাটানো যায়? তাহলে ঘুরে আসতে পারে ঝাড়খণ্ডের ‘পাহাড়ভাঙ্গা’ (Pahar Bhanga) থেকে।
ঘুরে আসুন ঝাড়খণ্ডের অফবিট পর্যটনকেন্দ্র পাহাড়ভাঙ্গা
পাহাড়, নদী আর জঙ্গলের মাঝে এক অপূর্ব ঠিকানা হল এই পাহাড়ভাঙ্গা। এই জায়গাটি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক দারুণ আকর্ষণীয় গন্তব্য। জামশেদপুরের (Jamshedpur) কাছাকাছি অবস্থিত পাহাড়ভাঙ্গা স্থানীয়দের কাছে একটি জনপ্রিয় পিকনিক স্পট। পাথুরে পাহাড়ের মাঝ দিয়ে বয়ে চলেছে নদী। পাহাড়ের নীচে নদীর কুলকুল শব্দ আর চারপাশের সবুজ প্রকৃতি মিলিয়ে জায়গাটিকে যেন সিনেমার দৃশ্যের মতো মনে হয়। নদীর একদিকে রয়েছে ঘন জঙ্গল, অন্যদিকে নদীর পাড়জুড়ে দেখা মেলে কাশফুলের। বিশেষ করে বর্ষার পর, যখন নদীর জল কিছুটা কমে আসে, তখন এই জায়গার সৌন্দর্য আরও ভালোভাবে উপভোগ করা যায়।
কী কী দেখবেন?
বসন্তকালে পাহাড়ভাঙ্গার রূপ আরও বদলে যায়। চারপাশের পলাশগাছে ফুটে ওঠে টকটকে লাল ফুল। সবুজ জঙ্গলের মাঝে লাল পলাশের এই সমারোহ প্রকৃতিপ্রেমীদের মন জয় করে নেয়। তবে শীতকালেও এই জায়গাটিকে কম সুন্দর দেখায় না। এখানকার অন্যতম আকর্ষণ হলো পাহাড়ের উপরে অবস্থিত গোলপাহাড়ি মন্দির। মন্দিরে পৌঁছতে প্রায় ২৫০টি সিঁড়ি ভাঙতে হয়। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এখানে ভক্তিভরে মনস্কামনা জানালে তা পূরণ হয়। পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছলে চারপাশের বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক দৃশ্য চোখে পড়ে। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে জামশেদপুরের দিকের দৃশ্যও উপভোগ করা যায়।
আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আচমকা বরফে ঢাকল সিকিমের নাথু লা, ছাঙ্গু লেক সহ বহু এলাকা
সব মিলিয়ে পাহাড়ভাঙ্গা এমন একটি জায়গা, যেখানে পাহাড়, নদী, জঙ্গল আর পলাশের সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করা যায়। প্রকৃতির কোলে নিরিবিলিতে সময় কাটাতে চাইলে এই অফবিট গন্তব্যটি আপনার ভ্রমণতালিকায় রাখতে পারেন।
কীভাবে যাবেন?
পাহাড়ভাঙ্গা দুয়ারসিনি থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার এবং জামশেদপুর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কলকাতা থেকে গাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে যাত্রাপথ ও যানজটের উপর নির্ভর করে সময় লাগতে পারে। ট্রেনে করে কলকাতা থেকে আগে জামশেদপুর যেতে হবে। এরপর সেখান থেকে একটি গাড়ি ভাড়া করে অনায়াসেই পাহাড়ভাঙ্গা ঘুরে আসতে পারবেন আপনি।










