সেচের খরচ কমে ২০% বাড়ল ফলন, ধান ও মিলেট চাষে ব্যাপক সাফল্য বাঁকুড়া থেকে পুরুলিয়ায়

Published:

Success Story of West Bengal's Farmers

অনন্যা সরকার, কলকাতা: বর্তমান সময়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় উদ্ভাবনী কৃষি পদ্ধতি ও প্রযুক্তি গ্রামীণ জীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে (Success Story)। বাঁকুড়ার শুশুনিয়া অঞ্চলের সিমুরালি গ্রামের মায়া খাঁ তাঁর দুই বিঘা ধান জমিতে ‘অল্টারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রাইং’ (AWD) বা পর্যায়ক্রমিকভাবে ভেজানো ও শুকানোর বিশেষ পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। এই পদ্ধতিতে জমিকে সবসময় জলমগ্ন না রেখে, নির্দিষ্ট চক্রে শুকোতে দেওয়া হয় এবং পুনরায় নির্দিষ্ট সময়ে জল দেওয়া হয়। এই কৌশলটি যেমন জল সাশ্রয় করে, তেমনই শ্রমের খরচ কমায়। এমনকি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস করার ক্ষেত্রেও এই আধুনিক কৃষি পদ্ধতিটি বিশেষ উপযোগী। উৎপাদন বাড়াতে এবং খরচ কমাতে বাংলার বহু কৃষক এখন আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছেন। 

অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষিকাজ হলো আরো সুবিধাজনক 

TOI-র রিপোর্ট অনুযায়ী, এক বেসরকারি ফাউন্ডেশনের সহায়তায়, মায়া খাঁ ৩০ সেন্টিমিটার লম্বা ও ১০ সেন্টিমিটার চওড়া ছিদ্রযুক্ত পাইপ ব্যবহার করে মাটির আর্দ্রতা পর্যবেক্ষণ করেন। এর ফলে প্রতি বিঘা জমিতে সেচের খরচ ১,০০০ টাকা থেকে কমে ৬০০–৭০০ টাকায় নেমে এসেছে এবং ফসলের ফলন ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থাটি রাজ্যজুড়ে এ ধরনের ৭০০টি পাইপ বসিয়েছে এবং ২০৩ জন কৃষককে এই প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, তার প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

অন্যদিকে, নদিয়ার যাত্রাপুরের ৩২ বছর বয়সী অলোক মল্লিকের গল্পটিও একইরকম অনুপ্রেরণাদায়ক। বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারের ভরণপোষণের জন্য তিনি কৃষিকাজকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। শুরুর দিকে অভিজ্ঞতার অভাব এবং সেচের জলের সংকটের কারণে তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। তবে ফাউন্ডেশন-র প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিনি সৌরচালিত পাম্প সম্পর্কে জানতে পারেন, যা সেচের কাজ অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী করে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: পর্যটকহীন দিঘা! বন্ধ দোকানপাট, সমুদ্র সৈকত জুড়ে বৃষ্টি শুরু

এর পাশাপাশি, তিনি ‘প্রধানমন্ত্রী কুসুম যোজনা’ (Pradhan Mantri KUSUM Yojana)-এর আওতায় আর্থিক সাহায্যও পেয়েছেন। বর্তমানে অলোক সারা বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করেন ও নিজের পুকুরে মাছ চাষ করে বাড়তি আয়ও করেন। ডিজেল-চালিত পাম্পের তুলনায় সৌরচালিত পাম্প ব্যবহার করা নিরাপদ, সহজ এবং পরিবেশবান্ধব হওয়ায়, তিনি এখন গ্রামের অন্যদেরও এটি ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করছেন।

আরও পড়ুন: ডায়মন্ড হারবারে ৩ বছর ধরে স্কুলের মধ্যেই গরু-ছাগল নিয়ে সংসার মহিলার, ব্যাহত পড়াশোনা

পুরুলিয়ার হুড়া ব্লকের কুসুমজুড়িয়া গ্রামের ৩৪ বছর বয়সী দীপালি মাহাতো একজন সাধারণ কৃষক থেকে সফল ‘মিলেট-উদ্যোক্তা’ হয়ে উঠেছেন। বিভিন্ন সেমিনার ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি মিলেট বা বাজরা জাতীয় শস্য চাষের উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পারেন। এরপর উন্নত মানের বীজ বপন করে তিনি খরিফ মৌসুমে ০.৩৫ একর জমিতে ৩৭ কেজি মিলেট উৎপাদন করেছেন। পরে তিনি মিলেট দিয়ে লাড্ডু, ক্ষীর, মালপোয়া এবং খিচুড়ির মতো বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরির প্রশিক্ষণও নেন। 

দীপালি এখন সফলভাবে ‘মিলেট ক্যাফে’ পরিচালনা করছেন, যা আনন্দধারা প্রকল্প এবং সেই বেসরকারি ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে। তাঁর এই সাফল্য জেলার আরও অনেক মহিলাকে অনুপ্রাণিত করেছে। এই তিনজন কৃষিজীবীর সাফল্যের কাহিনী প্রমাণ করে যে, সঠিক প্রযুক্তি, সামাজিক সহায়তা এবং প্রশিক্ষণ কৃষিকাজকে আরও পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক করে তুলতে পারে।

google button
TRENDING সবচেয়ে বেশি পড়া ← বাদিকে স্ক্রল করুন