IAS-র পদ ছেড়ে কৃষিক্ষেত্রের ‘গুগল’ আবিষ্কার, কৃষকদের জীবন বদলে দেন প্রাক্তন আমলা

Published:

Success Story of IAS Officer Pravesh Sharma

অনন্যা সরকার, সমাজে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে, সিদ্ধান্ত অবশ্যই পদ ও প্রভাবের ঊর্ধ্বে হতে হয়। মধ্যপ্রদেশ ক্যাডারের ১৯৮২ ব্যাচের প্রাক্তন আইএএস অফিসার প্রবেশ শর্মা (Success Story of IAS Officer Pravesh Sharma) এটাই সত্য প্রমাণ করেছেন। প্রায় ২৯ বছর প্রশাসনিক চাকরিতে কর্মরত থাকা ও ভারত সরকারের কৃষি মন্ত্রকের যুগ্ম সচিবের মতো মর্যাদাপূর্ণ পদে আসীন হওয়া সত্ত্বেও, তিনি উপলব্ধি করেন যে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কাগজের নীতিগুলো তৃণমূল পর্যায়ে বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয় না। এ কথা ভেবেই তিনি ২০১৬ সালে স্বেচ্ছাবসর (VRS) নেন এবং মানুষের উন্নতির জন্য সরাসরি মাঠে নেমে কাজ করা শুরু করেন।

বিদ্রূপকে পাত্তা না দিয়ে নিজের লক্ষ্যে অবিচল প্রাক্তন আইএএস কর্তা 

যখন প্রবেশ শর্মা যুগ্ম সচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করে কৃষি নিয়ে কাজ করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং তাঁর প্রথম স্টার্টআপের নাম দেন ‘সবজিওয়ালা’ (Sabziwala), তখন মানুষ অবাক হয়েছিল এবং তাঁকে উপহাস ও বিদ্রুপ করতেও ছাড়েনি। কিন্তু তাঁর লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট – কৃষকরা যেন তাদের কঠোর পরিশ্রমের জন্য সঠিক ও ন্যায্য মূল্য পান, তা নিশ্চিত করা।

তিনি দীর্ঘদিনের ব্যবস্থা থেকে মধ্যস্বত্বভোগীদের বাদ দিয়ে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ফসল কেনার একটি মডেল তৈরি করেন। প্রাথমিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও, তাঁর সাহসী উদ্যোগ সফল হয় এবং কৃষকরা বাজার মূল্যের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি লাভ করতে শুরু করেন।

আরও পড়ুন: সেচের খরচ কমে ২০% বাড়ল ফলন, ধান ও মিলেট চাষে ব্যাপক সাফল্য বাঁকুড়া থেকে পুরুলিয়ায়

সময়ের সাথে সাথে, প্রবেশ শর্মা তাঁর স্টার্টআপকে আরও প্রসারিত করেন। এর নাম দেন ‘কামতান ফার্ম টেক’ (Kamatan Farm Tech Pvt Ltd)। একটি স্বচ্ছ ব্যবসায়িক মডেল ও কৃষিজীবীদের আস্থার কারণে কোম্পানিটি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে দেশের অন্যতম প্রধান কৃষি-প্রযুক্তি সংস্থা ‘সম্মুন্নতি’ (Samunnati Group)  ‘কামতান’-কে অধিগ্রহণ করে।  প্রবেশ শর্মা সমুন্নতি গ্রুপের বোর্ড সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫৯০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ভারতীয় কৃষিক্ষেত্রে কৃষক উৎপাদনকারী সংগঠনকে (Farmer Producer Organisation – FPO) শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে প্রবেশ শর্মার অবদান অনস্বীকার্য, তাই  তাঁকে “ভারতীয় এফপিও-র জনক”-ও বলা হয়।

আরও পড়ুন: পায়ের তলায় সোনার সড়ক! দুবাইয়ে তৈরি হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম ২৪ ক্যারেট স্বর্ণখচিত হাঁটার রাস্তা

বর্তমানে, ৭০ বছর বয়সে এসেও প্রবেশ শর্মা একই রকম উৎসাহ নিয়ে কাজ করে চলেছেন। সম্প্রতি তিনি এগ্রিকালচারাল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘ভারত এফপিও ফাইন্ডার’ (Bharat FPO Finder) চালু করেছেন, যাকে কৃষিক্ষেত্রের ‘গুগল’ বলা হচ্ছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মাত্র এক ক্লিকেই সারা দেশের কৃষক, ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা একে অপরের সাথে যুক্ত হতে পারেন। প্রবেশ শর্মার এই অনন্য যাত্রা প্রমাণ করে যে, দৃঢ় সংকল্প থাকলে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উচ্চ সরকারি পদ ছেড়েও দেশ ও সমাজ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা সম্ভব।

google button
TRENDING সবচেয়ে বেশি পড়া ← বাদিকে স্ক্রল করুন