অনন্যা সরকার, বহরমপুর: শুক্রবার (১০ জুলাই) মুর্শিদাবাদ জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে শুরু করে গঙ্গা ভাঙন পর্যন্ত – একাধিক বিষয় নিয়ে বহরমপুরে আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠকে আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এই বৈঠক থেকেই পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের উদ্দেশ্যেও বড় বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান প্রান্তিক পরিবারগুলি মাসে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হতে পারে।
প্রশাসনিক বৈঠকে একাধিক বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
শুক্রবার বহরমপুরে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গ থেকে যে সব পরিযায়ী শ্রমিকরা ভিন রাজ্যে কাজের খোঁজে গিয়েছেন তাঁদের ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা করতে হবে। নিজের রাজ্যেই যাতে তারা কাজ পান, সেই বিষয়ে উদ্যোগী হতে জেলা প্রশাসনের কর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, ভিন রাজ্যে কাজে যাওয়া শ্রমিকদের ঘরে ফেরানোর জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তাদের জন্য ‘ভিবি-জি রামজি’ (VB-G RAM G)-এর ১২৫ দিনের কাজ ও আয়ুষ্মান ভারতের ৫ লক্ষ টাকার চিকিৎসা বীমার ব্যবস্থা রয়েছে। নির্মাণ শিল্প থেকে বিড়ি শিল্পে কেন্দ্র ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের লেবার ডিপার্টমেন্টের তরফে একাধিক প্রোজেক্ট আনা হয়েছে।
এর পাশাপাশি বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মুর্শিদাবাদ জেলার ১২ লক্ষ মহিলা জুলাইয়ের শুরুতেই অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) ৩,০০০ টাকা আর্থিক সাহায্য পেয়েছেন। তাঁর হিসেব অনুযায়ী, একটা প্রান্তিক পরিবার পিএম কিষাণ সম্মান নিধি (PM Kisan), অন্নপূর্ণা যোজনা, ১২৫ দিনের কাজ, বার্ধক্য ভাতার মতো বিভিন্ন প্রকল্পের কল্যানে প্রতি মাসে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা পেতে পারেন। তার সঙ্গে রেশন ও আয়ুষ্মান ভারতের অধীনে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ফ্রি চিকিৎসার মতো সুবিধাও রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বন্ধ হবে অবৈধ কার্যকলাপ! রাজ্যের ১২ জেলার মাদ্রাসায় বিশেষ ইন্সপেকশনের নির্দেশ
অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ ও মালদহ জেলার গঙ্গা ভাঙন রোধ করার জন্য সরকার তৎপরতার সাথে কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই এই দুই জেলার গঙ্গা ভাঙন নিয়ে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে কেন্দ্র ৫০ শতাংশ দেবে, বাকি খরচ রাজ্যের। রাজ্য বাজেট অনুযায়ী, ২৫০০ কোটি টাকা মুর্শিদাবাদের উন্নতিকল্পে ধার্য করা হয়েছে।










