সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ডিএ (Dearness Allowance) মামলা শুনানির জন্য উঠেছিল গতকাল সুপ্রিম কোর্টে। সেখানে রাজ্য সরকারের দাবি ছিল, অন্তত ৬৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মেটানো হয়েছে। তবে কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি, এখনও বহু কর্মী এক টাকাও বকেয়া পাননি। কিন্তু এবার বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের বক্তব্যের বিরোধিতা করল শিক্ষক সংগঠন বেঙ্গল টিচার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন। এ বিষয়ে মুখ্যসচিব মনজ আগারওয়ালকে পাঠানো হয়েছে চিঠি।
বকেয়া ডিএ নিয়ে এবার মুখ্য সচিবকে চিঠি
গতকাল সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, অন্তত বকেয়া ডিএ-র ৬৫ শতাংশ মিটিয়েছে সরকার। এই খাতে মোট ৭৭০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তবে শিক্ষক সংগঠনের তরফ থেকে মনোজ আগারওয়ালকে চিঠি পাঠিয়ে জানানো হয়েছে, এই দাবি সঠিক নয়। সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের একাংশ বকেয়া ডিএ বা ডিআর-র সামান্য পরিমাণ সুবিধা পেলেও এখনও পর্যন্ত অন্তত ৭০ শতাংশ কর্মচারী এক পয়সাও পায়নি। রাজ্য সরকারের দাবির কোনও যৌক্তিকতা নেই।
এমনকি সংগঠনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত কোনও সংশয় যাতে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে না থাকে, তা আদালতের সামনে তুলে ধরতে হবে রাজ্য সরকারকে। গতকাল বিকালে মুখ্য সচিবকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, রোপা ২০০৯ অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনস্থ সমস্ত কর্মচারীকে বকেয়া ডিএ দেওয়ার কথা সুপ্রিম কোর্টের রায়ে উল্লেখ রয়েছে। তবে আদালতের নির্দেশকে মান্যতা দিচ্ছে না রাজ্য সরকার। তাই এই হিসাবের স্পষ্টতা দরকার।
আরও পড়ুন: বাম-সিজেপির আন্দোলনে পড়ুয়াদের যোগ দেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা বিজয় সরকারের, তারপর …
প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, চলতি বছরের মার্চ মাসে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মেটাতে হবে। বাকি ৭৫ শতাংশ ধাপে ধাপে মেটানো যাবে। তবে তার মধ্যে সরকারের পরিবর্তন হয়েছে রাজ্যে। এদিকে শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের দাবি, ইতিমধ্যেই ৬৫ শতাংশ বকেয়া মেটানো হয়েছে, এবং তারা খুব বেশি হলে ৮৫ শতাংশ মেটাতে পারবে। তবে চিঠিতে দাবী করা হয়েছে, কারা কত শতাংশ বকেয়া পেয়েছেন তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করলেই সংশয় পরিষ্কার হবে। এমনকি বকেয়া ডিএ মেটানোর জন্য অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে রাজ্য সরকারকে।










