এরা পাবে না কৃষক বন্ধুর টাকা, যাচাই-বাছাই শুরু করল রাজ্য সরকার

Published:

Krishak Bandhu

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিন সরকার প্রকৃত উপভোক্তা ছাড়া ভুয়ো একজনকেও সরকারি কোনও প্রকল্পের সুবিধা দেবে না। আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই কারণেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে এত কেচ্ছা। ১২ পাতার ফর্ম থেকে শুরু করে অনলাইন, অফলাইন সব ভাবেই চলছে ভেরিফিকেশন। তবে এবার কৃষক বন্ধু (Krishak Bandhu) নিয়ে চড়াও প্রশাসন। এই প্রকল্পেও যোগ্য কৃষকরা ছাড়া কেউ পাবে না সুবিধা। চালু হয়েছে রাজ্যে তরফ থেকে যাচাই বাছাই।

কৃষক বন্ধু নিয়ে নতুন করে তথ্য যাচাই

আসলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে এবার কৃষক বন্ধুর ফিল্ড ভেরিফিকেশন চালু হয়েছে, যেখানে প্রকৃত সুবিধাভোগীদেরকে সনাক্ত করে অযোগ্যদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া জন্য একাধিক তথ্য চাওয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে কৃষকের ব্যক্তিগত তথ্য থেকে শুরু করে তাঁর জমির পরিমাণ, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য, এমনকি তাঁর স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হচ্ছে প্রশাসনের তরফ থেকে। লক্ষ্য একটাই, ভুয়ো বা অযোগ্য আবেদনকারীদেরকে এই প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া।

আসলে অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, গ্রামে জমি কিনে রেখে চাষ তো দূরের কথা, সেই জমিতে কোনও দিন পা মাড়াননি কৃষক। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ বড় বড় ব্যবসায়ী বা চাকরিজীবী। অথচ নিজের পরিচয় কৃষক দেখিয়েই তৃণমূল সরকারের আমলে দেদার কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকা লুটেছেন। সেই সমস্ত কৃষকদের সুবিধা দেবে না বিজেপি সরকার। সেই কারণেই চালু হয়েছে নতুন করে ভেরিফিকেশন। তবে এই খবর সামনে আসতেই যে অনেক কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে তা বলার অপেক্ষায় রাখে না। কারণ, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মতো এই প্রকল্প থেকেও এবার বাদ যাবে লক্ষ লক্ষ কৃষকের নাম।

আরও পড়ুন: কৃষক বন্ধুর ফর্ম কীভাবে পূরণ করবেন? জেনে নিন

এবার কৃষক বন্ধুর যে ফর্ম প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে আধার নম্বর থেকে শুরু করে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ডিটেলস, জমির খতিয়ান, প্লট নম্বর, পেশা সহ সমস্ত তথ্য দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি আবেদনকারীর পরিবার সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হচ্ছে। এমনকি কতটা জমি রয়েছে তা উল্লেখ করতে হবে ওই ফর্মে। সবথেকে বড় ব্যাপার, জমি দখলের কারণ কী সেটাও জানতে চাওয়া হয়েছে। তাই এবার জালিয়াতি করে আর কৃষক বন্ধুর সুবিধা নেওয়ার কোনও সুযোগ থাকবে না। এ বিষয়ে এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আগের সরকারের আমলে অনেক প্রকৃত কৃষকরা প্রকল্পের সুবিধা পাননি। কিন্তু যাদের প্রয়োজন নেই তারাও ২০০০ টাকা পেয়েছেন। সেটা আগামী দিন হবে না। নতুন কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মন্ডল আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন।