প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ময়দানে নামল শুভেন্দু সরকার। ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত (Indo Bangladesh Borders) রক্ষার্থে এবার BSF-কে জমি দেওয়ার প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু করে দিল রাজ্য সরকার (Government Of West Bengal)। সীমান্তে দ্রুত কাঁটাতার দিতে গতকাল, বৃহস্পতিবার সীমান্তবর্তী জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ভূমি দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা। ৪৫ দিনের ‘ডেডলাইন’ মেনেই করা হবে কাজ।
জমি হস্তান্তর নিয়ে আলোচনা
সূত্রের খবর, গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার BSF-কে জমি হস্তান্তর করা নিয়ে নবান্ন থেকে সীমান্তবর্তী জেলার প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছিল ভূমি দপ্তরের শীর্ষকর্তারা। সেখানেই তিনটি প্রক্রিয়ায় জমি হস্তান্তর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একটি হল ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি সরকার কিনে নেবে, দ্বিতীয়ত, বেদখল হয়ে থাকা খাস জমি উদ্ধার করে BSF-কে হস্তান্তর করা হবে। এবং তৃতীয়ত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অধীনে থাকা সীমান্তবর্তী জমিও আইন মেনে অধিগ্রহণ করে BSF-কে দেওয়া হবে। বৈঠকে দ্রুত জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা কীভাবে কাটানো যায়, সেই নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে গতকাল।
দ্রুত কাজ শুরু করতে চাইছে BSF
গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে ছিলেন যে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি আগামী ৪৫ দিনের মধ্যেই BSF-কে দেওয়া হবে। তাই গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্য সরকার যে তৎপরতার সঙ্গে ময়দানে নেমেছে তা বেশ বোঝা যাচ্ছে। শেষ আপডেট অনুযায়ী, সীমান্তের প্রায় ৫৭০ কিলোমিটার এলাকায় এখনও বেড়া বসানো বাকি। এর মধ্যে প্রায় ১১৩ কিলোমিটার নদীপথ হওয়ায় সেখানে বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়। তাই বাকি অংশে দ্রুত কাজ শুরু করতে চাইছে BSF।
আরও পড়ুন: ভাঙা হবে শিলিগুড়ির সব অবৈধ নির্মাণ, উত্তর প্রদেশ থেকে দু ডজন জেসিবি আনছেন রাজু বিস্তা
উল্লেখ্য, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০৯৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে শুধু বাংলার সীমান্ত ২২১৬ কিলোমিটার, মেঘালয় সীমান্ত ৪৪৩ কিলোমিটার, অসম সীমান্ত ২৬৩ কিলোমিটার, ত্রিপুরা সীমান্ত ৮৫৬ কিলোমিটার এবং মিজোরামের সীমান্ত ৩১৮ কিলোমিটার। যার মধ্যে বাংলায় কাঁটাতার নেই প্রায় ৮৬৪ কিলোমিটার এলাকায়। কেন এই কাঁটাতার নেই সেই প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয় বাংলার তৎকালীন রাজ্য সরকার সঠিক সময়ে জমি হস্তান্তর না করায় সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়নি। তবে এবার হয়তো সেই সমস্যা দ্রুততার সঙ্গে সমাধান হতে চলেছে বলে আশ্বাস মন্ত্রকের।










