সহেলি মিত্র, কলকাতা: দিন আসে দিন যায় কিন্তু বাংলায় ডিএ ইস্যুতে (Bengal DA Case) জট অব্যাহত রয়েছে। এদিকে বিধানসভা ভোটের প্রথম দফার নির্বাচনের দিনক্ষণ এগিয়ে আসছে। তারই মধ্যে আবারও সুপ্রিম কোর্টে মামলা গিয়েছে এবং বিশেষ আবেদন জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সেই মামলারই শুনানি হবে আগামীকাল বুধবার অর্থাৎ ১৫ এপ্রিল। চলুন আরও বিশদে জেনে নেওয়া যাক।

ফের সুপ্রিম কোর্টে হবে DA মামলার শুনানি
চলতি বছরের রাজ্য বাজেটে সরকার ঘোষণা করেছিল ৪% মহার্ঘ্য ভাতার। এই ঘোষণার পর সরকারি কর্মীদের ডিএ-র পরিমাণ ১৮ থেকে বেড়ে ২২ শতাংশ হওয়ার কথা। যদিও সরকারি কর্মীদের অভিযোগ, সরকার কথা রাখেনি। অ্যাকাউন্টে আসেনি বাড়তি মহার্ঘ্য ভাতার টাকা। ফলে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। এরইসঙ্গে আবার পঞ্চম বেতন পে কমিশনের আওতায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সরকারি কর্মীদের ২৫% টাকা ২ কিস্তিতে মেটানোর নির্দেশিকা জারি করেছিল। প্রথম কিস্তির টাকা সকলের একাউন্টে ঢুকে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে বাকি ৭৫ শতাংশ টাকা কবে এবং কিভাবে দেওয়া হবে সেই নিয়ে একটি কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে সেই টাকা মিটিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে সরকার দাবি করেছিল সময় বৃদ্ধি করে ৩১ ডিসেম্বর করা হোক। সেই নিয়ে আর্জি জানানো হয়েছিল। এবার সেই আর্জির শুনানি হবে বুধবার বলে খবর।
অর্থ কষ্টে ভুগছে সরকার?
এদিন শীর্ষ আদালতের বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হবে। ওই দিন দুপুরে রাজ্যের আবেদনটি উঠবে দুই বিচারপতির বেঞ্চে বলে সূত্রের খবর। এমনিতেই সকলের ডিএ মেটাতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ হবে বলে জানানো হয়েছিল। সেই সঙ্গে সামনে রয়েছে ভোট, তারওপর কেন্দ্র সরকারের তরফে কোনো রকম আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। ফলে যথেষ্টের মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ দিনে ৪৫ টাকা জমিয়ে মিলবে ২৫ লাখ, দারুণ স্কিম LIC-র
এহেন পরিস্থিতিতে বাকি ডিএ দেওয়ার সময়সীমা কিছুটা হলেও যাতে বৃদ্ধি করা হয় সেই জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল সরকারের তরফে। সরকারের তরফে আর্জিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রচুর খরচ হবে। সেই খরচ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সেই খরচও বহন করতে হবে। এ ছাড়া ২০১৬ সালের আগের বহু কর্মীর তথ্য এখনও কাগজেই রয়ে গিয়েছে। ফলে সব ডিজিটাল করে তারপরেই টাকা রিলিজ করা সম্ভব হবে। এখন দেখার শীর্ষ আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয় সে বিষয়ে।












