মিড ডে মিল বন্ধ, বদলে চালু পিএম পোষণ, পড়ুয়ারা পাবে পুষ্টিযুক্ত খাবার

Published:

Mid Day Meal

অনন্যা সরকার, কলকাতা: রাজ্য সরকারের পালাবদলের পর একে একে রূপ বদলে যাচ্ছে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও কর্মসূচির। ইতিমধ্যেই ঘোষনা করা হয়েছে বাংলার স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পকে কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে রূপান্তরিত করা হবে। এদিকে কৃষক বন্ধু বদলে হবে পিএম কিষান। আর এখন জানা যাচ্ছে, এরাজ্যের সরকারি ও সরকারি-পোষিত স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল (Mid-Day Meal) প্রকল্প বন্ধ করে চালু করা হবে পিএম পোষণ শক্তি নির্মাণ প্রকল্প (PM POSHAN)। এই প্রকল্পটি প্রায় ছয় বছর দেশের বিভিন্ন রাজ্যে চালু রয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে উপস্থিতি বাড়াতে ও তাদের পুষ্টির মান বৃদ্ধির জন্য বিনামূল্যে মধ্যাহ্নভোজন প্রদান করা এই প্রকল্পটির উদ্দেশ্য। এরাজ্যর মিড-ডে মিল প্রকল্পের সাথে পিএম পোষণের কিছু পার্থক্যও রয়েছে। 

পিএম পোষণ চালু করার উদ্যোগ নিল রাজ্য 

পিএম পোষণ প্রকল্পে শুধুমাত্র শিক্ষক-শিক্ষিকারাই নন, অন্তর্ভুক্ত করা হবে অভিভাবকদেরও। ইতিমধ্যেই মালদা জেলার বিভিন্ন স্কুলে এবিষয়ে আলোচনা করার শিক্ষক ও অভিভাবকদের বৈঠক আয়োজিত হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি স্কুলে পিএম পোষণের জন্য পাঁচজনের একটি কমিটি গঠন করতে হবে, যার মধ্যে থাকবেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক/শিক্ষিকা, একজন নোডাল শিক্ষক/শিক্ষিকা, দু’জন অভিভাবক ও একজন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রতিনিধি। এই কমিটি প্রতিদিনের খাবারের মেনু ঠিক করা, খাবারের গুণগত মান যাচাই করা এবং পরিবেশনের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থাকবেন। 

মালদার বার্লো গার্ল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা দীপাশ্রী মজুমদার জানান যে, সার্কেল ইন্সপেক্টর অফ স্কুলস-এর নির্দেশ পেয়েই তারা স্কুলে পিএম পোষণের কমিটি গঠন করেছেন। তারা এই কমিটিতে অভিভাবক প্রতিনিধিদের রেখেছেন। প্রধান শিক্ষিকা বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ চায় অভিভাবকের প্রতিনিধিরা প্রতিদিন টিফিনের সময় স্কুলে এসে তৈরি খাবারের তদারকি করুন এবং কোনও পরামর্শ থাকলে সেটাও দিন। কারণ তাদের সন্তানরাই এই খাবার খাবে, তাই তাদের খাবারের গুণগত মান যাচাই করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। 

আরও পড়ুনঃ পাবেন সোনাঝুরির জঙ্গল থেকে লেক-পাহাড়, বর্ষায় চলে যান কলকাতার কাছের দোলাডাঙ্গায়

এছাড়াও প্রধান শিক্ষিকা জানান, পড়ুয়াদের মাথা পিছু বরাদ্দ টাকা কম হলেও, তারা খাবারের গুণগত মান বজায় রাখার পূর্ণ চেষ্টা করবেন। ইতিমধ্যেই শিক্ষিকাদের নিয়ে স্কুলে একটি কমিটি গঠিত হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার মতে, মিড ডে মিল পুরসভার দ্বারা পরিচালিত হত, তবে পিএম পোষণ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দ্বারা পরিচালিত হওয়ার ফলে অনেক সুবিধা হচ্ছে। পিএম পোষণের মেনু আগে থেকেই ঠিক করা থাকে, তার বাইরেও পড়ুয়াদের আর কিছু দেওয়া যায় কিনা, সেটা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান প্রধান শিক্ষিকা।