প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল (Mid Day Meal) সরবরাহ করবে ইসকন, সম্প্রতি রাজ্য বাজেটে এমনটাই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কিন্তু বিষয়টি প্রকাশ্যে আসা মাত্রই তুমুল তর্ক বিতর্ক শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে। এমতাবস্থায় তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র সাকেত গোখেল (Saket Gokhale) মিড ডে মিলে রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে বিরাট তথ্য প্রকাশ্যে আনেন। জানা গিয়েছে, এখনই নাকি ইসকন-এর হাতে মিড ডে মিলের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার কোনো প্রস্তাব বা অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
রাজ্যে মিড ডে মিল বিতর্ক
রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ঘোষণা করেছিলেন যে, কলকাতা পুরসভা এলাকায় থাকা স্কুলগুলির জন্য পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ইসকনের সহযোগিতায় মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা করা হবে। যা নিয়ে নানা মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। গুজরাতেও মিড-ডে মিলের দায়িত্বে রয়েছে ইস্কন। এমনকী বেশ কয়েকটি রাজ্যেও মিড-ডে মিল সরবরাহ করে থাকে ধর্মীয় এই সংস্থা। যার ফলে প্রশ্ন উঠছে, ইস্কন মিড-ডে মিল সরবরাহ করলে আগামিদিনে বাংলায় পড়ুয়ারা কি ডিম পাবে? এবার সেই তর্ক বিতর্কের মাঝেই মিড ডে মিলে রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে বড় তথ্য ফাঁস করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র সাকেত গোখেল।
কী বলছেন সাকেত গোখেল?
বুধবার মধ্যরাতে সাকেত গোখেল এক্স হ্যান্ডেলে এক বিশেষ পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। যেখানে স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে পাঠানো একটি নোটিশ দেখা যাচ্ছিল। সাকেত গোখেলকে পাঠানো সেই নোটিশে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, “ বর্তমানে কলকাতা পুরসভা এলাকায় থাকা স্কুলগুলির মিড-ডে মিল ব্যবস্থা ইসকন (ISKCON)-এর হাতে তুলে দেওয়ার কোনো প্রস্তাব বা অনুমোদন নেই।”এর আগে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ঘোষণা করেছিল যে ইসকন মিড-ডে মিল পরিচালনার দায়িত্ব নেবে এবং খাবারের তালিকা থেকে ডিম বাদ দেওয়া হবে। সেখানে দাঁড়িয়ে এই তথ্য প্রকাশ্যে আসায় রীতিমত মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়ে রাজনৈতিক মহলে।
BIG WIN for the children of Bengal 😊
Have been informed by the West Bengal Govt that currently there’s no approval or proposal to hand over the school mid-day meal system to ISKCON.
Earlier, the Bengal Govt had announced that ISKCON will be handling mid-day meals & that eggs… pic.twitter.com/eBAvM99Z4r
— Saket Gokhale (@SaketGokhale) July 9, 2026
আরও পড়ুন: জয়েন্ট এন্ট্রান্সে ইতিহাস! পূর্ণ সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের আসন, উছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী
সাকেত গোখেলের দাবি করেছেন যে, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে, রাজ্যের শিশুদের প্রয়োজনীয় পুষ্টিবঞ্চিত করার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রয়েছে। বিজেপি যেখানে ডিম ছুড়ে বাংলার সংস্কৃতি নষ্ট করে দিচ্ছে সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস এইভাবেই সাধারণের পাশে থাকছে।” এদিকে কলকাতা পুর এলাকার স্কুলে মিড-ডে মিলে ডিম-মাছ কেন খাওয়ানো হবে না পড়ুয়াদের? এই প্রশ্ন তুলে রাজ্যের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। গতকাল, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়েছিল। সেখানে আপাতত এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে রাজ্যকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।










