হেলমেট ছাড়া বাইক চালালেই মোটা টাকা চালান, শাস্তি! কড়া নিয়ম রাজ্য সরকারের

Published:

West Bengal Police

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আর ফাঁকি মারা যাবে না ট্রাফিক আইন, কারণ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা (West Bengal Law And Rules) পরিস্থিতিকে আরও নিয়ন্ত্রণ করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ (West Bengal Police)। হেলমেট না পরে (Traffic Rules) বাইক বা স্কুটি নিয়ে বেরোলে এবার ভোগ করতে হবে কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তি। সঙ্গে চালান দিতে হবে অনেক। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে নেওয়া হতে চলেছে বড় পদক্ষেপ।

হেলমেট নিয়ে কড়াকড়ি লালবাজার

গত সোমবার, নবান্ন সভাঘরে প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য রাজ্য ও কলকাতা পুলিশকে সাফ নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে বাইকচালকদের অবশ্যই হেলমেট পড়তে হবে। তার পরপরই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ কার্যকর করতে কড়া হাতে লাগাম ধরল কলকাতা পুলিসের সদর দপ্তর লালবাজার। আর মুখে মুখে প্রচার নয়, এবার নির্দেশ কার্যকর করতে ময়দানে নামল পুলিশ। গতকাল, মঙ্গলবার সকাল শহরের প্রতিটি মোড়ে হেলমেট না পরার ফলে শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে অনেককে। জরিমানা আদায় করলেন ট্রাফিক সার্জেন্টরা।

রিপোর্ট জমা দেবে এডিজি

দক্ষিণ-পূর্ব কলকাতার পার্ক সার্কাস, কড়েয়া, তিলজলা, তপসিয়া, উত্তর পঞ্চান্নগ্রাম, ট্যাংরা সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় হেলমেট ছাড়া বাইকচালকদের দাপট দেখা যায়। একই সঙ্গে বন্দর এলাকার একবালপুর, খিদিরপুর, মেটিয়াবুরুজ, গার্ডেনরিচেও হেলমেট পরার চল প্রায় নেই। তাই সেই এলাকাগুলিতে এবার নজর রাখা হবে আলাদা করে। জানা গিয়েছে, গোটা বিষয়টি সরাসরি জেলা পুলিশ সুপার এবং কমিশনারদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। এডিজি নিয়মিত এই অভিযানের তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং প্রতি মুহূর্তের রিপোর্ট জমা দেবে দফতরে। অন্যদিকে গরু পাচার ও তোলাবাজি রুখতেও পুলিশকে কড়া অবস্থান নিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বাংলাকে নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস উপহার দিল রেল, চলবে এনজেপি রুটে

অস্ত্র খতিয়ে দেখতে হবে আইসি বা ওসিদের

রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার আগামী ১৫ মে-র মধ্যে প্রতিটি থানার মালখানায় জমা থাকা সমস্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ খতিয়ে দেখতে হবে আইসি বা ওসিদের। রেজিস্টারের সঙ্গে সমস্ত অস্ত্রের মিল পরীক্ষা করে পরের দিন অর্থাৎ ১৬ মে থেকে টানা দুই সপ্তাহ ধরে রাজ্যজুড়ে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হবে। কোনও ভাবেই যাতে অবৈধ কসাইখানা না চলে দেখতে হবে। এক্ষেত্রে ‘অ্যানিম্যাল স্লটার কন্ট্রোল অ্যাক্ট, ২০১৪’ কঠোরভাবে প্রয়োগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বেআইনি খনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সীমান্ত সমন্বয় বৈঠক বাধ্যতামূলক

রাজ্যের সীমান্তবর্তী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের জন্য নিয়মিত সমন্বয় বৈঠকের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে থানা স্তরে প্রতি মাসে এবং এসডিপিও স্তরে প্রতি তিন মাসে একবার করে বৈঠক করতে হবে এবং চিহ্নিত অপরাধী ও দালালদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসার পুরনো মামলাগুলো খতিয়ে দেখতে হবে। যে মামলাগুলোতে ইতিমধ্যেই ফাইনাল রিপোর্ট জমা পড়ে গেছে, সেগুলো খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তদন্তে কোনো গাফিলতি ধরা পড়লে পুনরায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে।