আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশাসনিক ও নিয়োগ সংক্রান্ত ক্ষেত্রে একের পর এক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষায় আর কোনও দুর্নীতি থাকবে না। এই দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে, স্কুল শিক্ষা থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা, বিভিন্ন স্তরেই নতুন পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। এবার রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য পৃথক সার্ভিস কমিশন গঠনের (West Bengal University Service Commission) পথে এগোচ্ছে উচ্চশিক্ষা দফতর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে নতুন কমিশনের ভাবনা
স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং কলেজ সার্ভিস কমিশনের আদলে এবার বিশ্ববিদ্যালয়গুলির জন্যও পৃথক কমিশন তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবিত এই সংস্থার নাম ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি সার্ভিস কমিশন’। মূলত রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াকে একটি নির্দিষ্ট কমিশনের আওতায় আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। কমিশন গঠনের সম্ভাব্য রূপরেখা তৈরি করতে ১১ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে উচ্চশিক্ষা দফতর।
কমিটিতে কারা রয়েছেন?
গত ৬ নভেম্বর এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। কমিটিতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় এবং গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের রাখা হয়েছে। পাশাপাশি যাদবপুর ও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক আধিকারিক, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্যও রয়েছেন। উচ্চশিক্ষা দফতরের অতিরিক্ত সচিব পার্থ চক্রবর্তী এবং বিশেষ আইন আধিকারিক উত্তম কুমার চৌবেও এই কমিটির সদস্য। পার্থ চক্রবর্তীকে কমিটির সদস্য-আহ্বায়ক করা হয়েছে।
এই বিশেষজ্ঞ কমিটির মূল দায়িত্ব হল কমিশনের কাঠামো এবং কাজের পরিধি নির্ধারণ করা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে কীভাবে শিক্ষক নিয়োগ করা হবে, নিয়োগের নিয়ম কী হবে এবং কমিশনের প্রশাসনিক কাঠামো কেমন হবে, সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখবেন সদস্যরা। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের মতামত ও পরামর্শও নেওয়া হবে। সমস্ত দিক বিচার করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ-সহ আগামী এক মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত কমিশন কার্যকর হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অনুমোদিত শূন্যপদে নিজেদের মতো করে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টিতে পরিবর্তন আসবে।
আরও পড়ুন: “কালী মায়ের সামনে মাফিয়াদের নাম নিচ্ছেন কেন?” অভিষেক কাণ্ডে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী
উল্লেখ্য, এর আগেও রাজ্যের স্কুল শিক্ষা প্রশাসনে বড়সড় রদবদল করেছিল সরকার। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক থেকে শুরু করে সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক-সহ বিভিন্ন স্তরে একসঙ্গে ৫৭ জন আধিকারিকের বদলি ও নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছিল। কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় এই পরিবর্তন কার্যকর হয়। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকার ও শিক্ষক নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষামহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বদলি সংক্রান্ত আইন কার্যকর হওয়ার পরেও স্বাধিকারে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছিলেন শিক্ষকদের একাংশ। এরই মধ্যে নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ ঘিরে এই আলোচনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। তবে কমিশনের চূড়ান্ত কাঠামো ও নিয়োগের নিয়ম কী হবে, তা বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট জমা পড়ার পরই স্পষ্ট হবে।










