সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: চোরবাগান বিপর্যয়ে (Chorbagan Incident) প্রাণ গিয়েছে ১৯ জনের এবং আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। সেই ঘটনার পরপরই তৎপর প্রশাসন। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ধরপাকড়। তবে ওই দুর্ঘটনার সময় মাইকে ভেসে আসছিল শুধু একটি আওয়াজ, “প্যান্ডেল ভেঙে যাচ্ছে। প্যান্ডেলের দিকে কেউ আসবেন না। দয়া করে বাইরে বেরিয়ে যান। নাহলে পদপিষ্ট হয়ে যাবেন।” এই একটি ঘোষণাই দাঁড়িয়েছিল কাল হয়ে। ইতিমধ্যেই গতকাল মূল ঘোষক সেন্টুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ঐদিন রাতে গ্রেফতার করা হয় আরেক ঘোষক বাবু মজুমদারকে (কালিয়া)। তবে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য কালিয়ার স্ত্রীর।
লুকিয়ে থাকতে বলেছিল ক্লাবের সদস্যরা
ওই দুর্ঘটনার পর সাঁড়াশি তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মাইকের পিছনে হঠাৎ করে কেই বা ঘোষণা করেছিল, সেই তদন্তই চালায় প্রশাসন। অবশেষে গতকাল নদীয়া থেকে গ্রেফতার করা হয় ঘোষক সেন্টুকে। তাঁকে বৃহস্পতিতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয় লালবাজার। তবে ওইদিন রাতেই আরেক জন অর্থাৎ বাবু মজুমদার ওরফে কালিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। স্বামীকে থানায় নিয়ে যেতেই বিস্ফোরক মন্তব্য তাঁর স্ত্রী কোয়েলের। তাঁর দাবি, ক্লাবের সদস্যরা নাকি ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত গা ঢাকা দিয়ে থাকতে বলেছিল কালিয়াকে।
একাধিক তথ্য ঘেঁটে জানা গেল, কালিয়া পেশায় একজন অ্যাপ ক্যাব চালক। বামফ্রন্টের আমল থেকেই চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটির সঙ্গে রয়েছেন তিনি। ১৮ বছরের বেশি সম্পর্ক। যদিও মাইকে ঘোষণা করার দায়িত্ব তাঁর ছিল না। কারণ তিনি গুছিয়ে কথা বলতে পারতেন না। তবে দুর্ঘটনার সময় ক্লাবের তরফ থেকে কালিয়াকে নির্দেশ দেওয়া হয় যে প্যান্ডেল ভেঙে পড়েছে ঘোষণা করতে। বিপদের আশঙ্কা করেই কমিটির কথা মতো কাজ করেন তিনি। আর তাই হয়ে দাঁড়াল কাল।
আরও পড়ুন: ফের ধাক্কা! নেহা বোরার পর আরও এক জনপ্রিয় নেতার সমর্থন হারাল সিজেপি
পুলিশ সূত্রে খবর, দুর্ঘটনার পর কিছুক্ষণের জন্য কালিয়া বাড়ি ফিরলেও পরে উদ্ধারকাজের জন্য বেরিয়ে যান। কিন্তু ফোন বাড়িতেই ফেলে আসেন। পরদিন সকালে স্ত্রীর সঙ্গে কালিয়া যোগাযোগ করে জানান যে ক্লাবের কয়েকজন সদস্য আগামী ২৭ তারিখ পর্যন্ত তাঁকে লুকিয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। তবে যেহেতু তিনি কোনও দোষ করেননি, তাই বৃহস্পতিবার রাতে থানায় গিয়ে নিজেই আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এমনকি তাঁর স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে হেনস্থা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ।










