সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: “অনুপস্থিত মানেই নীরবতা নয়! আমি খুব তাড়াতাড়ি বাংলাদেশে ফিরব।” জানালেন শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। ভারতে আত্মগোপন থাকা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি ইমেইল সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেছেন। তাঁর স্পষ্ট দাবি, রাজনীতিতে সামরিক অনুপস্থিতি মানেই যে তাঁর স্তব্ধ হয়ে যাওয়া এমনটা নয়। তিনি প্রতি মুহূর্তে দেশের জন্য লড়াই চালাচ্ছেন। এমনকি একই সঙ্গে দেশের (Bangladesh) বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা আর অর্থনীতি নিয়েও ডঃ মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বর্তমান তারেক রহমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
১৭ মে-র আবেগ হাসিনার কন্ঠে
আসলে ১৯৮১ সালে ১৭ মে নির্বাসন কাটিয়ে যেভাবে তিনি বাংলাদেশে ফিরেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সেই তুলনা টেনে হাসিনা বলেন যে, এবারেও আমার জীবননাশের ঝুঁকি ছিল। অনেক ষড়যন্ত্র ছিল। এবারও আমি ১৯ বার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি। আর আমার ফেরা কোনও নির্দিষ্ট তারিখের উপরে নির্ভর করছে না। বাংলাদেশে ন্যূনতম গণতান্ত্রিক পরিবেশ, বাক স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন ফিরে এলেই আমি আবারও আমার দল নিয়ে দেশে ফিরব।
তবে দলের উপর জারি হওয়া নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে শেখ হাসিনা বলেন যে, আওয়ামী লীগ বন্দুকের নল বা কারোর দয়ায় তৈরি হওয়া দল নয়। এটি মানুষের দল। কাগজের টুকরোতে নিষেধাজ্ঞা লিখে এই দলকে কোনও ভাবে চেপে রাখা যাবে না। যারা একে স্থায়ী ভাবছেন তারা এর ইতিহাস জানেন না। তাঁর দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে প্রায় দেড় লক্ষ নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল, এবং বহু মানুষকে ঘরছাড়া হতে হয়েছে আর জেলের ভাত খেতে হয়েছে।
দেশের অর্থনীতি নিয়েও তীব্র আক্রমণ হাসিনার
এক সাক্ষাৎকারকারে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতি নিয়ে সংকট প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের নেত্রী। এমনকি বর্তমানের সঙ্গে তিনি একটি তুলনামূলক খতিয়ান তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, বিগত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আর বর্তমান তারেক রহমান সরকার মিলে অভ্যন্তরীণ এবং বিদেশী উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা ঋণ করেছে, এবং বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস এবং সারের চরম সংকট চলছে। যার ফলে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা।
আরও পড়ুন: পথকুকুর নিয়ে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! NGO, ডগ লাভার্সের আবেদন খারিজ
এছাড়া ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি আমলের অন্ধকার দিনের কথা মনে করে হাসিনা অভিযোগ করেন যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কারাবন্দি শীর্ষ জঙ্গি এবং চরমপন্থীদেরকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, যা শুধুমাত্র বাংলাদেশের নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বিরাট হুমকি। পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন যে, আমাদের রাজনৈতিক বিরোধীরা সব সময় বলত যে আওয়ামী লীগ নাকি ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করে দিচ্ছে। তবে গত ১৮ বছর তারা একটাও দেশ বিরোধী যুক্তির প্রমাণ দেখাতে পারেনি। আর উল্টে এখন ভারতবিদ্বেষকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করা হয়েছে।










