১ দিনেই ৩ লাখ সদস্য, দেশের নতুন দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, চিনুন প্রতিষ্ঠাতাকে

Published:

Cockroach Janta Party

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: একদিকে যখন দেশে ভারতী য়জনতা পার্টি রাজ করছে, তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন দল আত্মপ্রকাশ করে ফেলল—‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party)। আপনি যদি বেকার বা অলস হয়ে থাকেন, এমনকি সারাদিন বেশিরভাগ সময়টাই সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটিয়ে দেন, তাহলে আপনি অনায়াসেই এই ককরোস জনতা পার্টি বা সিজেপি-তে যোগ দিতে পারেন। কারণ, ইন্টারনেটে দুনিয়া ছাড়িয়ে এই অভিনব ডিজিটাল আন্দোলন এখন তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদের একটি বিরাট প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। এমনকি তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র বা কীর্তি আজাদের মতো প্রথম সারির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও এই ট্রেন্ডের সামিল হচ্ছে। তবে আপনি কি জানেন, এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি কে তৈরি করল এবং এর পিছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে?

আন্দোলনের সূত্রপাত কীভাবে?

আসলে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত একটি মামলার শুনানি করার সময় মন্তব্য করেছিলেন যে, কিছু বেকার যুবক-যুবতী আরশোলার মতো চারিদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর পেশাগতভাবে ব্যর্থ হয়ে কেউ সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, কেউ বা সাংবাদিক আর কেউ কেউ আরটিআই কর্মী সেজে গোটা সিস্টেমকে আক্রমণ করছে। তবে বিচারপতির এই আরশোলা এবং পরজীবী মন্তব্যের পরেই দেশের বেকার যুব সমাজ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। যদিও পরামর্শের সময়ে তিনি স্পষ্ট দিয়ে জানান যে, তাঁর মন্তব্য সাধারণ বেকার যুবকদের উদ্দেশ্যে ছিল না, বরং যারা অবৈধভাবে সিস্টেমে প্রবেশ করছে তাঁদের জন্যই।

কিন্তু তাঁর সেই সংশোধন আর কজন মানবে! সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য শুনেই। এমতাবস্থায় এই মন্তব্যের ঠিক পরদিন অর্থাৎ ১৬ মে ব্যঙ্গাত্মক ভাবে আত্মপ্রকাশ করে ফেলে ককরোচ জনতা পার্টি। আর মাত্র এক দিনেই এক্স এবং ইনস্টাগ্রামে লক্ষ লক্ষ মানুষ পেজটিকে ফলো করতে শুরু করে। এমনকি ১ লক্ষের বেশি তরুণ-তরুণী এই অভিনব পার্টির সদস্যপদ গ্রহণ করে ফেলেন।

কে এই ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা?

দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী জানতে পারা গেল, এই ভাইরাল পার্টির নেপথ্যে রয়েছেন ৩০ বছর বয়সী যুবক অভিজিৎ দিপকে। বোস্টন ইউনিভার্সিটির পাবলিক রিলেশনসের এই ছাত্র অতীতে আম আদমি পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া টিমের একজন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর কথায়, আমরা আরশোলা বা ককরোস পরিচয়টাকেই আপন করে নিচ্ছি, যাতে আমাদের কথা সিস্টেমের কানে পৌঁছতে পারে। আরশোলা তখনই ঘর থেকে বের হয়, যখন গোটা সিস্টেম পৌঁছে যায়। আর ভারতের বর্তমান বেকারত্ব এবং যুবকদের প্রতি প্রশাসনের মানসিকতার বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াই।

আরও পড়ুন: কার সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াল জাহাঙ্গীর খান? যা জানাল তৃণমূল

কিন্তু ব্যাঙ্গাত্মক দল হলেও তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে আঙুল তোলা ইস্তেহার বেশ নজরও কেড়েছে। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ৫টি দাবি রেখেছে। সেগুলি হল—

  • কোনও প্রধান বিচারপতি অবসর নেওয়ার পর রিটায়ারমেন্ট রিওয়ার্ড বা পুরস্কার হিসেবে রাজ্যসভায় কোনও আসন পাবেন না।
  • সাংসদের আসন সংখ্যা না বাড়িয়ে নারীদের জন্য সরাসরি ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত করে দেওয়া হোক।
  • কোনও সাংসদ বা বিধায়ক দল বদল করলে তাঁকে আগামী ২০ বছরের জন্য নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বা যে কোনও সরকারি পদে বসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।
  • যদি কোনও বৈধ নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে ষড়যন্ত্র করে বাদ দেওয়া হয়, তাহলে দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আইনের আওতায় গ্রেফতার করতে হবে।
  • দেশের বড় বড় শিল্পপতিদের মালিকানাধীন মিডিয়া হাউসগুলির লাইসেন্স বাতিল করে স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পথ তৈরি করতে হবে।