প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে SIR বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে একের পর এক কাণ্ড হয়েই চলেছে। এসআইআর ফর্ম আপলোড ও ডিজিটাইজেশনের কাজের সময়সীমা শেষ হলেও এখন চলছে শুনানি। আর সেই নিয়েও বিতর্কের শেষ নেই শাসকদলের। তবে চুপ থাকছে না কমিশন এবং বিরোধী দলগুলি। আর এই আবহে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বৈধ নথির তালিকায় যুক্ত হল CAA শংসাপত্র (Citizenship Amendment Act Certificate)।
কমিশনের তালিকাভুক্ত হল CAA শংসাপত্র
২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে ভারতে চালু হয়েছে নাগরিকত্ব আইন। এই আইন অনুযায়ী ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে নিপীড়নের জন্য এ দেশে আসা শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এদিকে অনেক আগেই সিএএ শংসাপত্র হাতে না পেলে ভোট যে দেওয়া যাবে না, তা আদালত আগেই জানিয়ে দিয়েছিল। ফলে SIR চলাকালীন মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে এক চরম উৎকন্ঠা তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক নানা বিতর্কও তৈরি হয়েছিল। এমতাবস্থায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যে এসে মতুয়াদের উদ্দেশে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিল। আর সেই বার্তার পরেই এবার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের শংসাপত্র জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তালিকাভুক্ত হল।
আরও পড়ুনঃ মুস্তাফিজুরের বদলা নিল বাংলাদেশ, এবার এই ভারতীয়কে BPL থেকে বাদ দিল BCB
কী বলছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন?
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচন কমিশন নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছে। এমনকি ইতিমধ্যেই নাগরিকত্ব সম্পর্কিত যে কোনও নথিও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সঙ্গে যুক্ত জেলা আধিকারিকদের পোর্টালে নথিবদ্ধও হয়ে গিয়েছে। কমিশন সূত্রের খবর, এইমুহুর্তে SIR এর শুনানি পর্বের সঙ্গে ভোটার তালিকায় নতুন নাম তোলার আবেদন চলছে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পাবে। ফলে আগামী ভোটের আগে নতুন ভোটারদের কাছে নাম তোলার সময় থাকছে অনেক বেশি। এই সময়ের মধ্যে সিএএ শংসাপত্র থাকা কোনও ব্যক্তি যদি আবেদন করে, তাহলে সেই নথির ভিত্তিতে নতুন ভোটার হিসেবে তিনি তালিকাভুক্ত হবেন।
আরও পড়ুন: পিছোতে পারে স্কুলের সময়, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের কাছে গেল আবেদন
কমিশনের এক আধিকারিক CAA শংসাপত্র বিষয়ে জানিয়েছেন যে, “দেশের সুনির্দিষ্ট আইনের আওতায় এমন শংসাপত্র পেতে পারেন যোগ্য আবেদনকারী। যেখানে দেশের সংবিধান বলছে, একমাত্র ভারতীয় নাগরিকেরাই দেশের ভোটার হতে পারেন। সেখানে CAA শংসাপত্রের মত নথি গ্রাহ্য হওয়াই স্বাভাবিক।” প্রসঙ্গত, এত দিন কমিশনের তালিকায় ছিল কেন্দ্র-রাজ্য সরকার বা স্বশাসিত সংস্থার দেওয়া কোনও পরিচয়পত্র, পেনশন নথি, ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, এলআইসি নথি, জন্মের শংসাপত্র, পাসপোর্ট, স্বীকৃত বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার শংসাপত্র, স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র, বৈধ এসসি-এসটি-ওবিসি শংসাপত্র, NRC-নথি, সরকারের দেওয়া জমি-বাড়ির শংসাপত্র, আধার কার্ড। এ বার এর সঙ্গে যুক্ত হল নাগরিকত্ব শংসাপত্র-নথি।












