সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সারা জীবন পাশে থাকা বন্ধু দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গেই এবার পাকিস্তানের সম্পর্ক সাপে নেউলে (Pakistan–United Arab Emirates Relations)। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা থেকে ইঙ্গিত মিলছে যে পাকিস্তান থেকে মুখ ফিরিয়ে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে আগ্রহী আবুধাবি। হ্যাঁ, গত কয়েক সপ্তাহে আমিরাতের নেওয়া বেশ কিছু সিদ্ধান্ত ইসলামাবাদের কপালে একেবারে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
এতিহাদ এয়ারওয়েজ থেকে বিতাড়িত করা হচ্ছে পাকিস্তানি কর্মীদের
আসলে সম্প্রতি ইউএই এর জাতীয় বিমান সংস্থা এতিহাদ এয়ারওয়েজ ১৫ জন পাকিস্তানি কর্মীকে হঠাৎ করে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে দিয়েছে। আর বিষয়টি সাধারণের থেকেও বেশ কিছু বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, কোনও রকম আগাম নোটিশ ছাড়াই ইমিগ্রেশন অফিসে ডেকে তাদেরকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি বিতাড়িতদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন যারা দীর্ঘ ২০ বছর ধরেই বিশ্বস্ততার সঙ্গে কাজ করছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনও কর্পোরেট সিদ্ধান্ত নয়, বরং পাকিস্তানের প্রতি কূটনৈতিক বার্তা।
৩.৪৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ ফেরত চাইছে আমিরাত
পাকিস্তানের সবথেকে বড় ধাক্কা পড়েছে আর্থিক দিক থেকে। কারণ, ২০১৯ সালে পাকিস্তানের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য আবুধাবি ফান্ড ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছিল। পাকিস্তান এবং আইএমএফ আশা করেছিল যে, ২০২৭ সালের আগে এই টাকা হয়তো ফেরত দিতে হবে না। তবে সম্প্রতি হঠাৎ করে সেই অর্থ ফেরত চাইছে আমিরাত। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সৌদি আরবের থেকে পাওয়া নতুন ফান্ডের গোটা টাকা দিয়েই আমিরাতের ঋণ শোধ করতে হয়েছে পাকিস্তানকে। যার ফলে দেশটির ভাড়ারে টানাটানি থেকেই গেল।
ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে আমিরাতের টেলিকম সংস্থা
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বৃহত্তম টেলিকম কোম্পানি এতিসালাত পাকিস্তান থেকে তাদের বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। পাকিস্তানের সরকারি টেলিকম সংস্থা PTCL-এ তাদের ২৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। আর বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণ দেখিয়ে তারা এখন পাকিস্তান থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে নেওয়ার কথা চিন্তাভাবনা করছে। যা দেশের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিরাট আঘাত।
আরও পড়ুন: ‘শুধু একটি ওয়ার্ডই লিড পাবেন মমতা’ কোনটি? বড়সড় দাবি শুভেন্দুর
কেন পাকিস্তানের উপরে এরকম সিদ্ধান্ত আমিরাতের?
আসলে কূটনৈতিক মহলের মতে এর পিছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে। প্রথমত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এখন ভারতকে বিশাল অর্থনৈতিক শক্তি ও বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবেই দেখছে। আর ভারতের মজবুত অর্থনীতি এবং স্থিতিশীল বিদেশনীতি আমিরাতকে ক্রমশ আকৃষ্ট করছে। এমনকি এই মাসেই প্রধানমন্ত্রী মোদীর ইউরোপ সফরের সময়ই আমিরাতে যাত্রার সম্ভাবনা রয়েছে, যা এই বন্ধুত্বকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, ইরান এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা নিয়ে পাকিস্তান যে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে, তাতে আবুদাবি নাকি সন্তুষ্ট নয়। কারণ, ইউএই চেয়েছিল পাকিস্তান এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট অবস্থান নিক। আর তৃতীয়ত, উপসাগরীয় অঞ্চলে আধিপত্য বজায় রাখার জন্য সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে একটি ঠান্ডা লড়াই চলে। তবে পাকিস্তান বর্তমানে আর্থিক সাহায্যের জন্য সম্পূর্ণ সৌদির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, যা সংযুক্ত আরব আমিরাত ভালো চোখে দেখছে না।










