মাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্রে ফোন ব্যবহার শিক্ষাকর্মীর, প্রতিবাদ করতেই মারধর SI-কে

Published:

Jamalpur

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এই মুহুর্তে স্কুলে স্কুলে চলছে মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik Pariksha)। নিয়ম মেনে চলছে নিরাপত্তা প্রক্রিয়া। কড়া গার্ড দিচ্ছেন পুলিশরাও। এমতাবস্থায় পর্ষদের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন স্কুলে মোবাইল ব্যবহার করছেন এক কর্মরত শিক্ষাকর্মী। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে (Jamalpur)। আর সেই বিষয়টি সামনে উঠে আসতেই মোবাইল বাজেয়াপ্ত করার নিদান দেন বিদ্যালয় পরিদর্শক (SI)। এমতাবস্থায় শিক্ষক শিক্ষাকর্মীরা তাঁকে বেধড়ক পেটান। চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি স্কুল চত্বরে।

ঠিক কী ঘটেছিল?

রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার, পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের আঝাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষার দ্বিতীয় দিন, ইংরেজি পরীক্ষা চলাকালীন পড়ুয়াদের সামনেই পর্ষদের নিয়মকে তোয়াক্কা না করে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা ব্যবহার করছিলেন মোবাইল ফোন। আর সেই দৃশ্য দেখে প্রতিবাদ করে ওঠেন এসআই তথা স্কুল পরিদর্শক প্রশান্ত কবিরাজ। তাতেই শুরু হয় গণ্ডগোল। জানা গিয়েছে ওই SI শিক্ষকের ফোন বাজেয়াপ্ত করে এবং বাকি শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের কাছেও মোবাইল আছে কি না, তা জানার চেষ্টা করেন। তাতেই ক্ষুব্ধ হন শিক্ষকরা। সঙ্গে সঙ্গে SI এর উপর চড়াও হন তাঁরা এবং বাজেয়াপ্ত করা ফোন ছিনিয়ে নেয়।

কী বলছেন আহত স্কুল পরিদর্শক?

পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক হয়ে পড়েছিল যে গুরুতর আহত অবস্থায় কোনো রকমে স্কুল থেকে স্কুল পরিদর্শককে উদ্ধার করে জামালপুর থানার পুলিশ। আহত স্কুল পরিদর্শক বর্তমানে চিকিৎসাধীন। আহত প্রশান্ত কবিরাজের অভিযোগ, পর্ষদের নিয়ম না মেনে পরীক্ষা চলাকালীন স্কুলে মোবাইল ব্যবহার করা হচ্ছিল। মোবাইল বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করতেই প্রধান শিক্ষকের সামনেই তার উপর চড়াও হন স্কুলেরই বেশ কয়েকজন শিক্ষক। তাঁকে ঘিরে ধরে চলে কিল, চড়, ঘুষি। জোর করে তাঁকে স্কুলে আটকে রাখা হয়। শেষে আহত অবস্থায় কোনো রকমে বিডিওকে ফোন করেন তিনি।

আরও পড়ুন: দিল্লিতে সাংসদদের নিয়ে বৈঠক নীতিনের, সংবর্ধনা জানালেন জগন্নাথ সরকার

SI এর দায়ের করা অভিযোগ অস্বীকার করেন আঝাপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অসীমকুমার বিশ্বাস। তিনি দাবি করেছেন, ‘আমার স্কুলের একজন গ্রুপ ডি ভুল করে মোবাইল ফোন নিয়ে এসেছিলেন। তিনি ফোনটা সুইচড অফ করে দেননি কিন্তু আমি তা পাশের ঘরের টেবিলে রেখে দিয়েছিলাম। সুষ্ঠু ভাবে পরীক্ষা হচ্ছিল। ওই ফোনটা হঠাৎ বেজে উঠেছিল পরিদর্শকদের সামনেই। কিন্তু তা কেউ ব্যবহার করছিল না। উনি আসলে সুষ্ঠ ভাবে যাতে পরীক্ষা না চলতে পারে তাই এইসব করেছেন।” গোটা ঘটনায় জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক দেবব্রত পাল জানিয়েছেন ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করা হচ্ছে।

google button