প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঝাড়খণ্ডে। সোমবার রাতে এয়ার আম্বুল্যান্সে দুর্ঘটনায় (Jharkhand Air Ambulance Crash) প্রাণ হারালেন সাতজন। জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে রাঁচি থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল এই এয়ার আম্বুল্যান্সটি। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই মাঝ আকাশ থেকে বিমানটি অদৃশ্য হয়ে যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে এক ঘন জঙ্গল থেকে তার ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার হয়। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, বিমানে থাকা কারুরই বেঁচে থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই। কিন্তু কী কারণে দুর্ঘটনা, তা এখনও তদন্ত করা হচ্ছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
রিপোর্ট মোতাবেক গতকাল অর্থাৎ সোমবার, সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রাঁচি থেকে দিল্লি যাচ্ছিল ‘রেডবার্ড এয়ারওয়েজ প্রাইভেট লিমিটেড’-এর একটি বিচক্র্যাফ্ট সি-৯০ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি। কিন্তু ওড়ার কিছুক্ষণ পরেই কলকাতা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন পাইলট। তিনি আকাশপথের প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত রুট থেকে কিছুটা সরে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন। এরপরই যোগাযোগ স্থাপনের পর হঠাৎ যোগাযোগ এবং রাডার সিগন্যাল দু’টিই হারিয়ে যায়। সেই সময় বিমানটি বারাণসীর দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল। কোনও দিক থেকেই কোনো রকম যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় তল্লাশি শুরু হয়। শেষে ঝাড়খণ্ডের চাত্রা এলাকার ঘন জঙ্গলে তার ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার হয়।
#WATCH | An air ambulance, with seven people (including 2 crew members) on board, crashed in Kasariya Panchayat, Simariya block of Chatra district, in Jharkhand.
It was a Redbird Airways Pvt Ltd Beechcraft C90 aircraft VT-AJV operating a medical evacuation (air ambulance)… pic.twitter.com/xmr9OOcdNh
— ANI (@ANI) February 24, 2026
দুর্ঘটনায় মৃত ৭
জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটিতে ছিলেন মোট সাতজন আরোহী। তাঁরা হলেন, পাইলট বিবেক বিকাশ ভগত এবং সরাজদীপ সিং, সঞ্জয় কুমার, চিকিৎসক বিকাশ কুমার গুপ্ত, প্যারামেডিক শচীন কুমার মিশ্র এবং সঞ্জয়ের পরিবারের সদস্য দুই সঙ্গী অর্চনা দেবী এবং ধীরু কুমার। আসলে সঞ্জয় কুমার নামের ৪১ বছরের ওই ব্যক্তি রোগী ছিলেন, একটি দুর্ঘটনায় তাঁর শরীরের ৬৩ শতাংশ দগ্ধ হয়ে গেছিল। এতদিন তিনি ICU-তে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে এয়ার আম্বুল্যান্সে দিল্লিতে স্থানান্তর করা হচ্ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত মাঝপথেই ঘটে যায় এই ভয়ংকর বিপদ। প্রাণ হারায় ৭ জনই।
খারাপ আবহাওয়ার কারণেই বিপত্তি
ইতিমধ্যেই ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার তদন্তে নামে এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো বা AAIB-র বিশেষ দল। ডিজিসিএ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী তথ্য পরে জানানো হবে। তবে এই মুহূর্তে তদন্তকারীরা দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে প্রাথমিক অনুমান করছে খারাপ আবহাওয়ার কারণেই এই বিপত্তি ঘটেছে। কারণ, সেই সময় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া, প্রবল বৃষ্টি, বজ্রপাত ও বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল। তবে তদন্ত জারি রয়েছে। অন্যদিকে এই দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চম্পাই সোরেন।
আরও পড়ুন: রাজ্য সরকারের উপর চাপ বাড়াতে DA মামলায় নয়া পদক্ষেপ
ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রী ইরফান আনসারি আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার সকালে এই দুর্ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে জানিয়েছেন। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “খবর পাওয়ামাত্রই নিরাপত্তা সংস্থা এবং স্থানীয় প্রশাসনকে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। আমাদের অগ্রাধিকার ছিল উদ্ধারকাজ। রাজ্য সরকার পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।” দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।












