ঐতিহ্যের গায়ে আধুনিকতার ছোঁয়া! ইলেকট্রিক রূপে রাজপথে ফিরছে কলকাতার হলুদ ট্যাক্সি

Published:

yellow taxi kolkata

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ পরিবর্তনের বাংলায় এক নতুন কিছুর সাক্ষী থাকতে চলেছেন সকলে। বিশেষ করে সকলের নস্টালজিক এবং ইমোশন হলুদ ট্যাক্সিতে (Yellow Taxi) ঘটতে চলেছে মহাবিপ্লব। কেউ হয়তো ভাবতেও পারবেন না এমন হতে চলেছে আগামী দিনে। এই হলুদ ট্যাক্সি বদলে যেতে চলেছে EV-তে। আর এই বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। আরও বিশদে জেনে নেওয়া যাক।

হলুদ ট্যাক্সি বদলে গেল EV-তে

জানা গিয়েছে, দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (ডিভিসি), যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অংশীদারিত্বে, কলকাতার আইকনিক হলুদ ট্যাক্সিকে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়িতে (ইভি) রূপান্তরিত করে একটি প্রোটোটাইপ লঞ্চ করেছে, যা শহুরে গতিশীলতা এবং যানবাহন বিদ্যুতায়নের ক্ষেত্রে নতুন দিশা বলে মনে করছে সকলে।

এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ডিভিসি-র “রেট্রোফিটেড ই-মোবিলিটির সম্ভাব্যতা এবং এর স্থায়িত্বের জন্য প্রযুক্তিগত প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়ার ‘উদ্দেশ্যে ডিজিটাল টুইন উন্নয়ন’ শীর্ষক গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে প্রোটোটাইপটি তৈরি করা হয়েছে । এই উদ্যোগটির লক্ষ্য হলো , সাশ্রয়ী রেট্রোফিটিং সমাধান প্রচারের মাধ্যমে বিদ্যমান যানবাহনগুলোর কার্যক্ষম জীবনকাল বৃদ্ধি করে ভারতের বৈদ্যুতিক যানবাহনে রূপান্তরের একটি প্রধান প্রতিবন্ধকতা অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিনযুক্ত (ICE) যানবাহনগুলো সরিয়ে ফেলা। অর্থাৎ এর ব্যবহার কমানো।

হাত মেলাল ডিভিসি-যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়

কলকাতায় ডিভিসি সদর দপ্তরে ডিভিসি চেয়ারম্যান এস. সুরেশ কুমার, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য , ডিভিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ গবেষক এবং শিল্প প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ‘ সবুজ-হলুদ ট্যাক্সি’টি উন্মোচন করেন। ডিভিসি-র টেকসই উন্নয়ন-কেন্দ্রিক গবেষণা ও উন্নয়ন কর্মসূচির অধীনে অর্থায়িত এই প্রকল্পটি যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল কীভাবে ঐতিহ্যবাহী হলুদ ট্যাক্সিগুলোর মূল ট্রান্সমিশন কাঠামোর অনেকাংশ অক্ষুণ্ণ রেখে সেগুলোকে বৈদ্যুতিক যানবাহনে রূপান্তরিত করা যায় ।

আরও পড়ুনঃ কলকাতার গণ্ডি পেরিয়ে এবার অন্য শহরেও ছুটবে মেট্রো! বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক অমিতাভ গুপ্তের নেতৃত্বে এবং একটি বহুশাস্ত্রীয় শিক্ষাবিদ দলের সহযোগিতায় এই গবেষণাটি পরিচালিত হচ্ছে। এরকম যুগান্তকারী প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্তাদের মতে, প্রাথমিক পরীক্ষায় ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে , যার মধ্যে রয়েছে শহরে দীর্ঘ ড্রাইভিং রেঞ্জ, দ্রুততর ত্বরণ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা এবং আইওটি-সক্ষম পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা। ডিভিসি বলেছে, এই উদ্যোগটি তাদের গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে উদ্ভাবন এবং শিল্প-শিক্ষাঙ্গন সহযোগিতার ওপর তাদের ধারাবাহিক গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে। যদিও এটি জনসাধারণের জন্য কবে লঞ্চ হবে সে বিষয়ে কিছু জানা সম্ভব হয়নি। আশা করা যাচ্ছে, আগামী দিনে কিছু পরীক্ষায় সাফল্য মিললে কলকাতার রাস্তায় এই গাড়িকেও চলতে দেখা যাবে।