সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মহাকাশপ্রেমীদের জন্য রইল বড় খবর। আজ অর্থাৎ রবিবার এক দারুণ উপহার নিয়ে হাজির হচ্ছে মহাবিশ্ব। রাতের আকাশে দেখা যাবে বিরল মহাজাগতিক ঘটনা ‘ব্লু মুন’ (Blue Moon)। ২০২৩ সালের আগস্ট মাসের পর এটাই প্রথম ব্লু মুন, যেটি বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি সাধারণ দর্শকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। কিন্তু কোথায় কোথায় দেখা যাবে এই ব্লু মুন, আর কীভাবেই বা দেখবেন?
কী এই ব্লু মুন?
আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থান নাসার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ক্যালেন্ডারের হিসাব মিলিয়ে যখন একই মাসের মধ্যে দুবার পূর্ণিমা ঘটে, তখন দ্বিতীয় পূর্ণিমার চাঁদটিকে ব্লু মুন বলা হয়। চাঁদ পৃথিবীর চারপাশে একবার ঘুরে আসতে ২৯.৫ দিন সময় নেয়। কিন্তু এই সময়কাল ক্যালেন্ডারের মাসগুলোর তুলনায় কিছুটা কম। কারণ, ক্যালেন্ডার সাধারণত ৩০ বা ৩১ দিন হয়ে থাকে। এই সামান্য সময়ের পার্থক্যের কারণেই প্রতি ২ থেকে ৩ বছর পর এরকম ঘটনা ঘটে, যেখানে একই মাসের একদম শুরুতে একবার পূর্ণিমা দেখা, যায় আর একদম শেষে অর্থাৎ ৩০ বা ৩১ তারিখে পুনরায় পূর্ণিমা দেখা যায়।
কখন এবং কোথা থেকে দেখা যাবে এই দৃশ্য?
আজ অর্থাৎ ৩১ মে সারা বিশ্বজুড়ে ব্লু মুুনের এই দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এটি সূর্যদয়ের ঠিক আগে অর্থাৎ সকাল প্রায় ৪:৪৫ মিনিটে সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতায় পৌঁছবে। বায়ুমণ্ডলের ধূলিকণা এবং আলোর প্রতিসরণের কারণে দিগন্তে উদিত হওয়ার সময় এটা কিছুটা সোনালী বা কমলা রঙের হতে পারে। কিন্তু আকাশ যত পরিস্কার হবে, তত চাঁদ ধীরে ধীরে তার চেনা উজ্জ্বল রূপ ধারণ করবে।
জানা গিয়েছে, ভারত সহ এশিয়া মহাদেশ, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের দর্শকরা আজ অর্থাৎ ৩১ মে সন্ধ্যার পরেই আকাশে চাঁদের সবথেকে উজ্জ্বল এবং গোল রূপ দেখতে পাবে। কিন্তু ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী গত ৩০ মে রাতে এই দৃশ্য ছিল সবথেকে চমৎকার। পাশাপাশি ইউরোপ ও আফ্রিকার আকাশপ্রেমীরা ৩০ এবং ৩১ মে-র মধ্যবর্তী রাতে পূর্ণিমার এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে।
আরও পড়ুন: টানা ৫ দিন বন্ধ থাকবে দুর্গাপুর ব্যারেজ, হয়রানির আশঙ্কা
না বললেই নয়, আজ রাতের এই ব্লু মুনের আরও একটি বড় বিশেষত্ব হল, এটি একই সঙ্গে একটি মাইক্রো মুন, অর্থাৎ আজ একই সঙ্গে আপনি ব্লু মাইক্রো মুন প্রত্যক্ষ করতে চলেছেন। চাঁদ যখন তার উপবৃত্তাকার কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবী থেকে সবথেকে দূরের বিন্দুতে অবস্থান করে, সেই সময় আকাশে যে পূর্ণিমা ঘটে, তখন তাকে মাইক্রো মুন বলা হয়। পৃথিবীর থেকে অতিরিক্ত দূরত্বের কারণেই চাঁদকে সাধারণ পূর্ণিমার চাঁদের থেকে ১৪% ছোট আর কিছুটা কম উজ্জ্বল দেখায়। কারণ, পৃথিবী থেকে চাঁদের স্বাভাবিক গড় দূরত্ব যেখানে ৩ লক্ষ ৮ হাজার ৪০০ কিলোমিটার, সেখানে আজ অ্যাপোজি বিন্দুতে চাঁদ এবং পৃথিবীর দূরত্ব গিয়ে দাঁড়াবে ৪ লক্ষ ৬ হাজার ৯৩ কিলোমিটার।










