সহেলি মিত্র, কলকাতা: কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বিরাট চমক। কয়েক ঘন্টা আগেই কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এদিকে কিছু সময় কাটতে না কাটতেই এই পদে বসলেন প্রহ্লাদ যোশী (Pralhad Joshi)। হ্যাঁ দেশের নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে প্রহ্লাদ যোশীর নাম ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। NEET পেপার ফাঁসের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছিল সমগ্র দেশ।
নতুন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী হলেন প্রহ্লাদ যোশী
শিক্ষা মন্ত্রী হিসেবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে প্রথমে সোনম ওয়াংচুকের অনশন, তারপর ককরোচ জনতা পার্টির দেশজুড়ে আন্দোলন। লাগাতার জেন জি -দের বিক্ষোভের জেরে শেষমেষ আজ শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধান শিক্ষা মন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেন। জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি তাঁকে শিক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন। তবে, তিনি তাঁর বর্তমান মন্ত্রকগুলোর দায়িত্বও বহাল রাখবেন। এর অর্থ হলো, আপাতত তিনি তাঁর বর্তমান দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্বও সমানভাবে পালন করবেন।
আরও পড়ুন: ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান
দেশজুড়ে শুরু হয়েছিল তীব্র আন্দোলন
রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র অবিলম্বে গৃহীত হয়েছে। এর পর প্রহ্লাদ যোশীকে শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে নেওয়া হল যখন নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার অনিয়মের জেরে ছাত্র বিক্ষোভ সংবাদ শিরোনামে রয়েছে। যদিও ককরোচ জনতা পার্টিও আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছে। এই পুরো ঘটনাটির সূত্রপাত হয় ২০২৬ সালের ৩ মে, যখন NEET-UG পরীক্ষার পর প্রশ্নপত্র ফাঁস ও কারচুপির অভিযোগ সামনে আসে। ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
আরও পড়ুন: ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগের পর প্রতিক্রিয়া দিলেন ওয়াংচুক, ‘ককরোচদের জয়’ বলে আখ্যা অভিজিতের
ধীরে ধীরে, বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে একটি বড় ছাত্র আন্দোলনে পরিণত হয়। এরই মধ্যে, ১৫ মে একটি শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের একটি মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। তিনি কিছু ব্যক্তিকে বর্ণনা করতে ‘আরশোলা’ শব্দটি ব্যবহার করেন। পরে তিনি স্পষ্ট করেন যে তার মন্তব্যটি সাধারণ যুবকদের উদ্দেশ্যে ছিল না, বরং যারা জাল ডিগ্রি নিয়ে পেশায় প্রবেশ করেছে তাদের উদ্দেশ্যে ছিল। ২০২৬ সালের ২৮শে জুন, সোনম ওয়াংচুক এই আন্দোলনে যোগ দেন। তিনি পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্ত এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিতে যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেন। একটানা অনশনের কারণে তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সরকারের সাথে আলোচনা এবং লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পর তিনি অনশন শেষ করেন। এরপর থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয় ‘আরশোলা’-দের।










