প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে দেখা যাচ্ছে স্তনের ক্যানসারের পরে ভারতীয় মহিলারা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে জরায়ুরমুখের ক্যানসার বা সার্ভিক্যাল ক্যানসারে। উত্তরোত্তর ছড়িয়ে পড়েছে এই রোগের জাল, যার ফলে বেশ চিন্তিত গোটা দেশ। এই অবস্থায় প্রতিরোধ করা সম্ভব এমন ক্যানসারের বিরুদ্ধে ময়দানে নেমেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সার্ভিক্যাল ক্যানসার রুখতে দেশজুড়ে কিশোরীদের (HPV Vaccination) টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু করতে চলেছে প্রশাসন, তাও আবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে উদ্যোগী কেন্দ্র
চিকিৎসকদের মতে মহিলাদের জরায়ুরমুখের ক্যানসারের অন্যতম মূল কারণ হল HPV টাইপ 16 ও 18 ৷ এছাড়াও টাইপ 6 ও 11 ক্যানসারও হয়ে থাকে। যা ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয় রোগীদের। তবে সময়মতো টিকাকরণের মাধ্যমে এই ক্যানসার প্রতিরোধ সম্ভব, মত চিকিৎসকদের৷ তাই সেই ক্যানসার প্রতিরোধ করার জন্য 14 বছর বয়সি মেয়েদের জন্য HPV বা হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস টিকাকরণের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। কারণ এই টিকা নিলে সার্ভিক্যাল ক্যানসারের বিরুদ্ধে শরীরে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই কর্মসূচি চালু হতে পারে বলে জানিয়েছে সরকার।
14 বছরের কিশোরীদের জন্য বিশেষ পদক্ষেপ
অনেকের মনে প্রশ্ন উঠছে সরকার কেন 14 বছর বয়সী মেয়েদের টার্গেট করছে, এই বিষয়ে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক সরকারের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বিশ্ব এবং ভারতের বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন যে, নির্দিষ্ট বয়সে মহিলাদের টিকার একটি ডোজ দেওয়া হলে সুরক্ষা মিলবে। 14 বছর বয়সে মেয়েদের এই টিকা দিলে সুরক্ষা মিলবে সর্বাপেক্ষা। কারণ, তখনও ভাইরাসের সংস্পর্শে যায় না মেয়েরা। জানা গিয়েছে, 15 বছরের কম বয়সী মেয়েদের মোট দু’টি ডোজ দিতে হয়। 15 বছরের বেশি বয়সি মেয়েদের টিকার তিনটি করে ডোজ দিতে হয়। এমএসডি ইন্ডিয়া এই টিকা তৈরি করে।
খোলা বাজারে গার্ডাসিল-4-এর একটি ডোজের দাম 3,927 টাকা। তবে সরকারি প্রকল্পের আওতায় এই টিকা বিনামূল্যে পাবে 14 বছরের কিশোরীরা। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রস্তাব মেনে এই কর্মসূচি রূপায়ণ হচ্ছে ৷ প্রসঙ্গত, 2024 সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার দুই বছর পর, 14 বছর বয়সি মেয়েদের জন্য দেশব্যাপী এইচপিভি টিকাদান অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি, টিকা নিলে ভবিষ্যতে জরায়ুমুখ ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এই কর্মসূচির অধীনে 2027 সালের মধ্যে 2.6 কোটি ডোজ দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।












