প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar) নিয়ে ফের প্রকাশ্যে এল বিস্ফোরক তথ্য। নদিয়ার (Nadia) একটি ব্লকেই এবার ১৭৩ পুরুষ লক্ষ্মীর তালিকা উঠে এল প্রশাসনের তরফে। মাথায় হাত সকলের। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভুয়ো উপভোক্তার তালিকা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই প্রায় ৩০ লক্ষ নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলেছিল। আর এবার সেই আশঙ্কাই ধীরে ধীরে বাস্তবে পরিণত হতে চলেছে। গ্রেফতার হচ্ছেন একের পর এক লক্ষ্মী ছেলেরা।
নদীয়ায় ১৭৩ জনের হদিশ
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালু করার আগেই পূর্বতন সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসছে। বহরমপুরের রাকিবুল শেখ থেকে রঘুনাথগঞ্জের তারিকুর রহমান, মুস্তাফিজুর রহমান..একের পর এক নাম রয়েছে তালিকায়। জেলায় জেলায়, গ্রেফতার হচ্ছেন অনৈতিক ভাবে লক্ষ্মীর ভান্ডার পাওয়া তৃণমূলের পুরুষ নেতারা। কারোর ৩ টে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছে তো কারোর আবার ৮ টি অ্যাকাউন্টে। তবে এদের কাউকে ছাড়া হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এমতাবস্থায় নদীয়ায় পুরুষ ‘লক্ষ্মীর’ তালিকা আরও লম্বা হল।
কৃষ্ণনগর ২ নম্বর ব্লকে, অন্তত ১৭৩ জনের হদিশ মিলল। এতদিন ধরে তাঁদের অ্যাকাউন্টেই ঢুকছিল টাকা। অভিযোগ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই ব্লকে টাকা ঢুকছিল। ইতিমধ্যেই ভুয়ো প্রাপকদের চিহ্নিত করে তালিকা থেকে নাম বাতিলের জন্য জেলাশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন কৃষ্ণনগর ২ নম্বর ব্লকের BDO। আর এই ঘটনায় ভোলা শীল নামে BDO অফিসের এক কর্মীকে শোকজ করা হয়েছে।
SIT গঠনের নির্দেশ
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে গতকাল, সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, “অনেক বড় রহস্য ফাঁস হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ২২ ভুয়ো অ্যাকাউন্ট পাওয়া গিয়েছে। যেখান থেকে পুরুষরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা নিচ্ছে। আরও অনেক সংখ্যক পাওয়া যাবে বলে অনুমান। ১৫টা অ্যাকাউন্ট রয়েছে মুস্তাফিজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী তুলিকার। ৬ অ্যাকাউন্ট পাওয়া গিয়েছে তারিকুল রহমানের। কেবলমাত্র জঙ্গিপুরেই ৩ হাজার ভুয়ো নাম বেরোবে।” ইতিমধ্যেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ‘দুর্নীতি’ নিয়ে SIT গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: ময়লার গাড়ি বিক্রি করে টাকা খাওয়ার অভিযোগ, আত্মঘাতী বাদুড়িয়ার পঞ্চায়েত প্রধান
প্রসঙ্গত, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে ১২-১৩ পাতার ফর্ম ফিলআপ নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করছেন, সেই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, “এতদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার অনুপ্রবেশকারীরা তো পাচ্ছিলেই, এমনকি হাজার হাজার মহিলা নন এমন তৃণমূলের লোকেরাই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা লুট করছিল। কিন্তু আর এসব মানা হবে না। বাজার থেকে একটি সবজি কিনতে গেলেও যেমন যাচাই করে দেখা হয়, তাহলে ফর্মে তথ্য যাচাই করা হবে না কেন? ৩৬ হাজার টাকা দেবে সরকার, একটু সহযোগিতা করে দেখুন না। একটু ভরসা করে দেখুন না।”










