ময়লার গাড়ি বিক্রি করে টাকা খাওয়ার অভিযোগ, আত্মঘাতী বাদুড়িয়ার পঞ্চায়েত প্রধান

Published:

Baduria

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই গ্রেপ্তার হচ্ছেন একের পর এক তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীরা। আর এবার দুর্নীতির তালিকায় নিজের নাম জড়াতেই আত্মহত্যার (TMC Leader Death) পথ বেছে নিলেন বাদুড়িয়ার (Baduria) তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান জাহিদুল হক বৈদ্য। মঙ্গলবার সকালে এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়। পুলিশের তৎপরতায় বাড়ি থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের ঝুলন্ত দেহ।

অবসাদে আত্মহত্যা পঞ্চায়েত প্রধানের

রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ, মঙ্গলবার ভোর রাতে ঘর থেকে দেহ উদ্ধার হয় বাদুড়িয়া বিধানসভার অন্তর্গত যদুরহাটি উত্তর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জাহিদুল হক বৈদ্যের। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ মনে করছে, আত্মহত্যা করেছেন তিনি। এদিকে পরিবারের দাবি, জাহিদুল আর্থিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এমনকি বৈবাহিক জীবনেও নাকি অশান্তি চলছিল তাঁর। ইতিমধ্যেই প্রৌঢ়ের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। তবে কী কারণে মৃত্যু, আত্মহত্যা কি না, এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ময়লা ফেলার গাড়ি বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ

জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে পঞ্চায়েত প্রধান জাহিদুল হক বৈদ্যের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ চালাচ্ছিল স্থানীয়রা। তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির মামলা শুরু হয়েছিল। অভিযোগ ছিল যে, স্বচ্ছ ভারত মিশনের ১২টি অত্যাধুনিক ব্যাটারি চালিত ময়লা ফেলার গাড়ি বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করে দিয়েছেন তিনি। এমনকি তাঁর গ্রেফতারির দাবি জানিয়ে থানায় গিয়েছিল স্থানীয়রা। যদিও তখন পলাতক ছিলেন জাহিদুল। কিন্তু আজ, মঙ্গলবার সকালে প্রতিবেশীরা জানতে পারেন, জাহিদুল বাড়িতে আত্মহত্যা করেছেন।

আরও পড়ুন: ‘ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত’, পুরুলিয়ার মাদ্রাসায় বন্দে মাতরম গাওয়া নিয়ে আপত্তি

তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান জাহিদুল হক বৈদ্যের বিরুদ্ধে একাধিক হিংসামূলক অভিযোগ উঠে এসেছে। ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসায় বহু বিজেপি কর্মীর ঘরবাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি তাঁদের এলাকা ছাড়া করারও অভিযোগ উঠেছিল ওই প্রধানের বিরুদ্ধে। কিন্তু বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার মানুষ তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলতেই অবসাদে ভুগছিলেন জাহিদুল। আর সেখান থেকেই হয়ত আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। যদিও এখনও কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।