সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিশ্ববিদ্যালয় অনুদান কমিশন বা ইউজিসি-র নতুন সমতা সংক্রান্ত বিধির বিরুদ্ধে ফের সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court on UGC) দারস্থ হয়েছে আবেদনকারীরা। তবে বুধবার জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে কড়া পর্যবেক্ষণ করেন শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। তাঁর মন্তব্য, একই বিষয়ে বারবার পিআইএল দায়ের করে মিডিয়া প্রচার পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
কী বলেছেন প্রধান বিচারপতি?
রিপোর্ট অনুযায়ী, শুনানির সময় আবেদনকারীর আইনজীবী দাবি করেছিলেন, সংশ্লিষ্ট বিধি প্রণয়নের ক্ষেত্রে ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করা হচ্ছে। কিন্তু প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, আগের মামলাগুলো থেকে এই আবেদনটি আলাদা কোথায়? তিনি স্পষ্ট বলেছেন, এটি কেন জনস্বার্থ মামলা? এখন বিষয়টি বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। বাইরে মিডিয়ায় আলোচনায় আসার উদ্দেশ্যেই তাহলে কি আবেদন করা হচ্ছে? আদালতের এই পর্যবেক্ষণে মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ফের নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বলে রাখি, এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট বিধির উপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছিল। আর আদালত সেই সময় পর্যবেক্ষণ করেছিল, বিধির খসড়া প্রথম দৃষ্টিতে অস্পষ্ট আর এর প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে। এমনকি এর অপব্যবহারের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে বিচারপতিরা মন্তব্য করেন।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু কোথায়?
আসলে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমতা বৃদ্ধির জন্য নতুন ইউজিসি বিধি ২০২৬ নিয়েই আপত্তির শুরু। এক্ষেত্রে জাতিভিত্তিক বৈষম্য সংজ্ঞা নিয়ে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। সমালোচকদের অভিযোগ, বিধিতে বৈষম্যকে প্রধানত তপশিলি জাতি, তফশিলি উপজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর বিরুদ্ধে বৈষম্য সংজ্ঞায়িত করা হয়েছিল। এর ফলে অন্যান্য কিছু শ্রেণী সুরক্ষার বাইরে থেকে যেতে পারে। সেই ইস্যুতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র সংগঠন এবং নাগরিক গোষ্ঠীগুলি প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
আরও পড়ুন: ব্যাঙ্কে KYC নিয়ে সতর্কবাণী RBI-র, বিপদে পড়ার আগে জানুন
তবে ইউজিসি-র নতুন প্রস্তাবিত বিধি অনুযায়ী, উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমতা রক্ষার জন্য বিশেষ কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক। আর সেই কমিটিতে এসসি, এসটি, ওবিসি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা থাকবে। এমনকি একজন মহিলা সদস্য এবং একজন প্রতিবন্ধী সদস্য রাখাও বাধ্যতামূলক। সরকারের মতে, এই বিধির উদ্দেশ্য হল উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তি এবং সমতা নিশ্চিত করা।












