সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দিনের পর দিন পাক-আফগান সীমান্তে বাড়ছে উত্তেজনা (Afghanistan–Pakistan War)। পরিস্থিতি এখন চরমে পৌঁছেছে। শুক্রবার আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করছে যে, তাদের বিমান বাহিনী নাকি পাকিস্তানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে এবং বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। আর তাতে প্রায় ৬০ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়। তবে সন্ত্রাসের দেশের তরফ থেকে সেই দাবি মেনে নেওয়া হয়নি। সামরিক পদক্ষেপ ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা একেবারে তুঙ্গে পৌঁছেছে। এমনকি তা সম্পূর্ণ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রূপ নিয়েছে।
বড়সড় দাবি আফগানিস্তানের
গতকাল একজন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে বিমান হামলা চালানো হয়। তালেবান জঙ্গি বিমানগুলি পাকিস্তানের ভিতরে প্রবেশ করে ফরিদাবাদ থেকে শুরু করে নওশেরায় সামরিক দফতর এবং জামরুদের সামরিক ঘাঁটিগুলি গুঁড়িয়ে দেয়। এমনকি রাজধানী ইসলামাদের অ্যাবোটাবাদের মতো কৌশলগত এলাকাগুলোতেও আঘাত হানা হয়। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইনায়েতুল্লাহ খাওয়ারজমি নিশ্চিত করে বলেন যে, বিমান হামলাটি সফল হয়েছে। আর আমরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীদের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলি ঘাঁটি এবং স্থাপনাগুলিকে ধ্বংস করে দিয়েছি। এমনকি তাদের দাবি, পাকিস্তানি বাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই আফগান আকাশ সীমা লংঘন করছে। সেই কারণেই এই হামলা।
এদিকে আফগান সেনাপ্রধান ফাসিহউদ্দিন ফিতরাত পাকিস্তানকে করা হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, পাকিস্তানের যে কোনও সামরিক তৎপরতার জবাব কঠোরভাবেই দেওয়া হবে। এমনকি আফগান জনসাধারণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, আমরা আফগানিস্তানের মুসলিম সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করেছি যে আমরা কোনও রকম আগ্রাসনের জবাব না দিয়ে ছাড়ব না। আর আমরা আঙ্গুলের জবাব মুষ্টি দিয়েই দেব। পাশাপাশি তিনি এও দাবি করেন, যদি এই হামলার পুনরাবৃত্তি হয় তাহলে আফগান বাহিনী ইসলামাবাদ সহ পাকিস্তানি বড় বড় শহরগুলোতে আঘাত হানতে দু’বার ভাববে না।
আরও পড়ুন: ‘কমনওয়েলথে সোনা পেয়েছেন স্বপ্না বর্মণ!’ অ্যাথলেটকে নিয়ে বেফাঁস শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু
এদিকে টোলো নিউজ সূত্রে খবর, তালিবানরা শুধুমাত্র বিমান হামলায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং স্থলভাগেও তোড়জোড় শুরু করেছে। আফগান সেনাবাহিনী সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে ট্যাঙ্ক, হালকা এবং ভারী অস্ত্র মোতায়ন করেছে। পাশাপাশি বিশ্লেষক আব্দুল সাদিক হামিদজয় এ বিষয়ে বলেন, মুজাহিদীনরা কেবলমাত্র চার বছর ধরে নয়, বরং গত ৪০ বছর ধরেই যুদ্ধ করে আসছে। আর তাদের সামরিক মোকাবিলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। যদিও কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষ গোটা বিশ্বের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। উভয় দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা, সন্ত্রাসবাদকে আশ্রয় দেওয়ারই অভিযোগ করছে। আর বর্তমানে এই হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনও রকম বিবৃতি সামনে আসেনি। তবে এই সংঘর্ষ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটাই দেখার।












