সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ২০২৬ মানেই যেন বিপর্যয়ের বছর! চারিদিকে যুদ্ধ তো লেগেই রয়েছে, তার উপর আবার শোনা যাচ্ছে, সিকিমে হিমবাহ ধরে পড়তে পারে (Glacier Avalanche Forecast)। ২০২৩ সালে দক্ষিণ লোনাক লেকের সেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মনে গেঁথে রয়েছে। তারই মধ্যে উত্তর ও পূর্ব সিকিমে এবার বিপর্যয়ের আশঙ্কা। সম্প্রতি প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও এবং সিকিম বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর যৌথভাবে পূর্ব সিকিমে (Sikkim) হিমবাহ ধস নিয়ে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে। আর আগামী ২৪ ঘণ্টা সিকিমের পার্বত্য এলাকার জন্য অত্যন্ত সংকটজনক বলেই দাবি করা হয়েছে।
কোন কোন জায়গায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে?
প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পূর্ব সিকিমের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলগুলিতে বিশেষ করে নাথুলা, জুলুক এবং নাথাং ভ্যালি এলাকায় হিমবাহে ধসের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আর গ্যাংটক এবং পাকিয়ং জেলা প্রশাসনকে যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নাথুলায় সেনা ছাউনি আর নাথাং ভ্যালিতে ছোট পাহাড়ি গ্রাম থাকার কারণে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন।
আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, বঙ্গোপসাগরে বিপরীত ঘূর্ণাবর্ত এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতের পশ্চিমী ঝঞ্ঝার জেরেই হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আর ভারী বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি এবং তুষারপাত এই তিনের দাপটে একেবারে সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত। পাশাপাশি গত শুক্রবার থেকে উত্তর সিকিমের লাচুং, লাচেন এবং পূর্ব সিকিমের ছাঙ্গু ও নাথুলা তো পুরু বরফে ঢেকে গিয়েছে। তারপর আবার হিমবাহ ধসের আশঙ্কা।
সান্দাকফুতে আটকে বহু পর্যটক
বেশ কয়েকটি রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, সিকিমের পাশাপাশি দার্জিলিংয়ের পাহাড়ের অবস্থাও বেশ উদ্বেগজনক। কারণ, তুষারপাতে সান্দাকফু ও ফালুট চত্বরে মানেভঞ্জন থেকে যাতায়াতের রাস্তা এখন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আর জানা যাচ্ছে, সান্দাকফুতে বর্তমানে প্রায় ৫০ জন পর্যটক আটকা পড়েছেন। তারা কোনও মতেই আসতে পারছেন না। তারা সুরক্ষিত থাকলেও বরফ গলে রাস্তা পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: খোলা ছিল রেলগেট, যাত্রীবোঝাই বাসে ধাক্কা ট্রেনের! ঘটনাস্থলেই নিহত ১২
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের গ্যাংটক শাখার আধিকারিক গোপীনাথ রায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, শনিবার রাত্রিবেলাও এই এলাকাতে ভারী বৃষ্টি এবং তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু আশা করা যাচ্ছে যে, রবিবার দুপুরের পর থেকে আবহাওয়া আবার স্বাভাবিক হতে পারে। সোমবার থেকে আটকে পড়া পর্যটকদের আবারো ফেরানোর কাজ শুরু হতে পারে। আর সিকিম সরকার ইতিমধ্যেই বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে দ্রুত ওই এলাকাগুলোতে মোতায়েন রাখতে বলেছে। এখন দেখার পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হয়।












