সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এবার ভিক্ষার বাটি নিয়ে আইএমএফ এর কাছে পৌঁছল কাঙাল পাকিস্তান (Pakistan Loan From IMF)। তীব্র আর্থিক অনটন এবং ঋণের জালে জর্জরিত হয়ে সন্ত্রাসের দেশটি ফের আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের দরজায় কড়া নাড়ল। চরম অবস্থায় দেউলিয়া হওয়ার আশঙ্কার মাঝেই ইসলামাবাদ ১২০ কোটি ডলার ঋণের চুক্তি স্বাক্ষর করল আইএমএফ-র সাথে (International Monetary Fund)। বারবার বিভিন্ন দেশের কাছে হাত পাতার পর এবার আইএমএফ এর এই নতুন ঋণ প্রদান পাকিস্তানের ধুকতে থাকা অর্থনীতিকে সাময়িক স্বস্তি দেবে, এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।
কীভাবে মিলল এই বিপুল পরিমাণ ঋণ?
আসলে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত করাচি এবং ইসলামাবাদে আইএমএফ-র প্রতিনিধিদের সঙ্গে পাকিস্তান সরকারের দীর্ঘ আলোচনা হয় বলে খবর। সশরীরে আলোচনায় কোনও রকম সুরহা না হলেও পরবর্তী সময়ে অনলাইনে আলোচনার মধ্যে দুই পক্ষ নাকি সহমত পোষণ করে। শনিবার আইএমএফ জানিয়ে দেয়, পাকিস্তানের এক্সপেন্ডেন্ট ফান্ড ফ্যাসিলিটি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলার জন্য তৈরি রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাস্টেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটির পর্যালোচনা সফলভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে আইএমএফ এর মিশন প্রধান ইভা পেত্রোভা জানিয়ে দিয়েছেন, বোর্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই পাকিস্তান এই অর্থ হাতে পাবে। হিসাব অনুযায়ী, এক্সটেন্ডেন্ট ফান্ড ফ্যাসিলিটি খাতের আওতায় দেশটি ১০০ কোটি ডলার পাবে। ২০২৪ সালে শুরু হওয়া ৭ আরব ডলারের প্যাকেজের একটি অংশ এটি, এমনটাই জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাস্টেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটির আওতায় জলবায়ু পরিবর্তন এবং দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য পাকিস্তান আরও ২১ কোটি ডলার হাতে পাবে।
আরও পড়ুন: তিন বছরের বকেয়া DA একবারে, কবে ঢুকবে টাকা? জানাল নবান্ন
বলাবাহুল্য, পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দিনের পর দিন ধুকছে। তবে এর উপরেও আইএমএফ কয়েকটি কঠিন শর্ত আরোপ করেছে। প্রথমত, কর আদায়ের পরিমাণ বাড়াতে হবে এবং সরকারি খরচ কমাতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিদ্যুৎ এবং গ্যাস খাতের লোকসান কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মনে আবারো পুনরায় বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হবে। তবেই তারা এই ঋণ হাতে পাবে। এমনকি আর্থিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তান বর্তমানে ঋণের উপর ভর করেই দেশ চালাচ্ছে। কখনো সৌদি আরবের কাছে হাত পাতছে, কখনো আরব আমিরশাহির কাছে হাত পাতছে, আবার কখনো চিনের কাছে। আর অবশেষে আইএমএফ-র কাছেই হাত পাততে হল তাদের। দেখা যাক এই ঋণ নিয়ে দেশটি আর কতদিন চলতে পারে।












