সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: যারা ভাবছিলেন যে ভারতীয় ভারতীয় রুপির (Indian Rupee) দাম দিনের পর দিন পড়তেই থাকবে, তাদের জন্য এক বালতি সমবেদনা! এক প্রকার মুখতোড় জবাব দিল দেশের অর্থনীতি। গত মার্চ মাসে ডলারের (United States Dollar) বিপরীতে টাকার দাম ৯৫ এর গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছিল। যার ফলে বাজারে তো উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিলই, পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও জন্মেছিল হতাশাজনক প্রশ্ন। তবে ২ এপ্রিলের এক ঘটনায় সম্পূর্ণ চিত্রই বদলে গেল। মাত্র একদিনেই ভারতীয় মুদ্রা প্রায় ২% শক্তিশালী হয়ে ডলারের বিপরীতে ৯২.৬৩ টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। আর ২০১৩ সালের পর সবথেকে বড় লাফ এটাই।
RBI-র মাস্টারস্ট্রোকে ঘুরে গেল খেলা
আসলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (Reserve Bank of India) হস্তক্ষেপের কারণেই। প্রথমত, বাজারে ধারণা তৈরি হয় যে টাকা আরও দুর্বল হয়ে যাবে। তখন অনেক ডলার কিনে মজুদ করতে শুরু করে বিনিয়োগকারীরা। সেই ফাটকা লেনদেন রুখার জন্যই আরবিআই অফশোর নন-ডেলিভারেবল ফরোয়ার্ডসের উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ায়। এছাড়া একবার বাতিল করা বিদেশি মুদ্রা সংক্রান্ত চুক্তি পুনরায় বুক করার উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। আর ব্যাঙ্কগুলোর ফরেক্স পজিশন ১০০ মিলিয়ন ডলারে সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে অহেতুক ডলারের চাহিদা তৈরি না হয়। আর তাতেই একেবারে খেলা ঘুরে যায়।
প্রসঙ্গত, ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাবো, একদিনে টাকার মানে এত বড় উত্থান খুবই কম ঘটেছে। এর আগে ২০১৩ সালে একদিনে ১% থেকে ২% পর্যন্ত শক্তিশালী হয়েছিল ভারতীয় টাকার দাম। আর দীর্ঘ ১২ বছর পর আবারো সেই একই রকম গতির সাক্ষী থাকল ইন্ডিয়ান রুপি। সেই কারণে বহু ট্রেডার এবং ব্যাঙ্ক তড়িঘড়ি তাদের ডলার বিক্রি করতে শুরু করেছে। যার কারণে বাজারে ডলারের চাহিদা কমে এবং দামও তলানিতে ঠেকে।

আরও পড়ুন: ‘মোফাক্কেরুলই উস্কানিদাতা’, কালিয়াচক কাণ্ডে মুখ খুললেন এডিজি উত্তরবঙ্গ
আমজনতার কোথায় লাভ?
আসলে টাকা শক্তিশালী অবস্থানে থাকলে সাধারণ মানুষের পকেটেই স্বস্তি আসবে। কারণ, বিদেশ থেকে আসা মোবাইল থেকে শুরু করে ল্যাপটপ, ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জামের দাম অনেকটাই কমতে পারে। আর পেট্রোল-ডিজেলের আমদানিতে ভারতকে এখন কম ডলার খরচ করতে হবে। যার ফলে বাজারে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা কমবে এবং পেট্রোল-ডিজেলের দামও বাড়ার কোনও আশঙ্কা নেই। পাশাপাশি টাকা শক্তিশালী হলে রপ্তানিকারকদের আয়ও কিছুটা কমতে পারে। কারণ, বিদেশী বাজারে তখন ভারতীয় পণ্যের দাম অনেকটাই বেড়ে যায়।












