সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যে চলছে গরমের ছুটি। এরই মধ্যে ভাষার বৈচিত্র্য ঘটাতে তৎপর পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Government of West Bengal)। পড়ুয়াদের বহুমুখী ভাষায় শিক্ষিত করার জন্য রাজ্যে শুরু হতে চলেছে অভিনব উদ্যোগ। যার নাম দেওয়া হয়েছে ভারতীয় ভাষা সামার ক্যাম্প (Language Summer Camp)। সূত্রের খবর, ভারতীয় সংবিধানে স্বীকৃত ২২টি ভাষার সঙ্গে রাজ্যের পড়ুয়াদের পরিচিতি ঘটাতে এই উদ্যোগে সামিল হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। যে ভাষাটি স্কুলে সচরাচর পড়ানো হয় না এরকম অন্তত একটি ভাষায় প্রাথমিকভাবে দক্ষতা তৈরির লক্ষ্যে মোট ২৮ ঘণ্টার একটি বিশেষ শিবির বা ক্যাম্প আয়োজন করা হবে।
কেন দরকার এই সামার ক্যাম্পের?
বিকাশ ভবন সূত্রে খবর, গত ১৩ মে দিল্লিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় ভাষা সামার ক্যাম্পের উদ্বোধন হয়েছে। আর জাতীয় শিক্ষানীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল—পড়ুয়াদের নিজস্ব মাতৃভাষার পাশাপাশি আরও একটি বা একাধিক ভারতীয় ভাষায় জ্ঞানলাভ করানো। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই এবার সবকটি রাজ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলা শিক্ষা আধিকারিকদের মাধ্যমে প্রতিটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের কাছে গাইডলাইন পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে স্কুল শিক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন যে, এই ক্যাম্পের কার্যপদ্ধতি নিয়ে বিকল্প দুটি উপায় খোলা রয়েছে। প্রথমত, গরমের ছুটির মধ্যে টানা ৭ দিন প্রতিদিন ৪ ঘণ্টা করে মোট ২৮ ঘণ্টার ক্যাম্প করা যেতে পারে। দ্বিতীয় বিকল্প হল—যদি গরমের ছুটির পরে স্কুল খোলে, তাহলে পরবর্তীতে তিন সপ্তাহে প্রতিদিন ২ ঘণ্টা পরে এই বিশেষ কর্মসূচি আয়োজন করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন: কমাতে হবে খরচ, অ্যাকশন মুডে নবান্ন! একাধিক নির্দেশিকা জারি সরকারের
তবে এক্ষেত্রে উল্লেখ করার বিষয়, প্রতিটি শিবিরে অন্তত ৭৫ থেকে ১০০ জন পড়ুয়ার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। আর পড়ুয়ারা যে ভাষাটি নিয়মিত স্কুলে পড়ে, যেমন বাংলা মাধ্যম হলে বাংলা, হিন্দি মাধ্যমে হিন্দি, ইংরেজি মাধ্যম ইংরেজি, সেই ভাষা বাদে সংবিধান স্বীকৃত অন্য যে কোনও একটি ভাষা বেছে নিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, যদি কোনও স্কুলে হিন্দি বা ইংরেজি পড়ানো হয়, তাহলে সেখানে সংস্কৃতর পাশাপাশি অন্য যে কোনও দক্ষিণ ভারতের ভাষা যেমন তামিল বা কানাড়া শেখানো হতে পারে। এতে পড়ুয়াদের মধ্যে ভাষার সম্যক জ্ঞান অনেকটাই বাড়বে বলেই অনুমান করছে বিশেষজ্ঞরা।










