সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বাংলায় বিধানসভা ভোটের নির্ঘন্ট বেজে গিয়েছে। ২০২৬ সালে বাংলায় দুই দফায় ভোট হবে। কিন্তু এবছর কয়েক লক্ষ মানুষ আদৌ ভোট দিতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে ধন্ধ শুরু হয়েছে। এর কারণ এখনও অবধি SIR তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের নতুন করে ভেরিফিকেশনের জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল (Tribunal) চালু করে উঠতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন। কর্মী নিয়োগ না হওয়া, মালদহের কালিয়াচকে ট্রাইবুনালের ট্রেনিং নিতে যাওয়া বিচারকদের চূড়ান্ত হেনস্থা ও গাড়ি ভাঙচুর, বিচারকদের অসন্তোষের কারণে গোটা প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে বাংলার ২২ লক্ষেরও বেশি মানুষের ভাগ্য ঝুলে রয়েছে। তাঁরা এ বছর আদৌ নিজেদের গণতান্ত্রিক রক্ষার জন্য ভোটদান করার সুযোগ পাবেন কিনা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনে চরম অচলাবস্থা!
সম্প্রতি সুপ্রিম (Supreme Court) কোর্ট জোর দিয়ে বলেছে যে, বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (SIR)-এর সময় পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের ভোটাধিকার স্থায়ীভাবে কেড়ে নেওয়া যাবে না। এই প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন আত্মবিশ্বাসের সুরে জানিয়েছিল যে বৃহস্পতিবার থেকেই নাকি রাজ্যের একাধিক জায়গায় ট্রাইবুনাল চালু হয়ে যাবে। কিন্তু পরিস্থিতি দেখে বোঝা যাচ্ছে, কথাই সার হয়েছে।
পরিকাঠামো গঠন থেকে শুরু করে বিচারকদের নিয়োগ, সব মিলিয়ে নাকি এখন নির্বাচন কমিশনেই চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এহেন অবস্থায় প্রথম দফার ভোট অর্থাৎ আগামী ২৩ এপ্রিলের আগে এই ট্রাইবুনাল আদৌ কমিশন চালু করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ দানা বেঁধেছে নানা মহলে। তবে এসবের গেরোয় বিশ বাঁও জলে বাংলার ২২ লক্ষেরও মানুষের ভাগ্য। তাঁরা কি আদৌ এবারে ভোট দিতে পারবেন? সেই নিয়ে স্পষ্ট করে এখনই কিছু জানাতে পারছে না নির্বাচন কমিশন।
বহু জায়গায় ট্রাইবুনাল হওয়ার কথা ছিল
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য মোট ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠনের কথা ঘোষণা করেছিল কমিশন। কথা ছিল, কলকাতা-সহ রাজ্যের মোট সাতটি কেন্দ্রে ট্রাইবুনালের কার্যালয় তৈরি হবে এবং বৃহস্পতিবার থেকেই সেখানে পুরোদমে কাজ শুরু হবে। কিন্তু নির্ধারিত দিন পেরিয়ে গেলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে এই নিয়ে এখন চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। সাতটির মধ্যে কেবলমাত্র কলকাতার জোকার ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন’-এ অ্যাপিলিয়েট ট্রাইবুনাল গঠনের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। বাকি ছয়টি কার্যালয় কোথায় হবে, কীভাবে চলবে—সে বিষয়ে কমিশনের কাছে কোনও স্পষ্ট জবাব নেই। এদিকে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, ঠিক তেমনই প্রশ্ন তুলছেন বিচারকরাও। তাঁরা এখন দায়িত্ব নেওয়ার থেকে পিছিয়ে আসছেন বলে খবর।
আরও পড়ুনঃ বদলে যাচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিকের সেমেস্টার সিস্টেম? মুখ খুলল শিক্ষা সংসদ
এদিকে SIR-র জন্য চরম বিপাকে রয়েছেন কয়েক লক্ষ মানুষ। তালিকায় তাঁদের নাম কেন ওঠেনি, সেই উত্তরও তাঁরা ভালো মতো পাচ্ছেন না। এক কথায় ভোটের মুখে চরম নাজেহাল হচ্ছেন সকলে। নবান্নে এই বিষয়ে বৈঠক বসলেও সুরাহা কিছুই হয়নি। ফলে এখন এটাই দেখার অচলাবস্থা কবে এবং কীভাবে কাটে।












