প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দিনভর কাজের ব্যস্ততার কারণে শরীরের যত্ন নেওয়া ভুলে যেতে বসে অনেকে। বাইরের অত্যধিক জাঙ্ক ফুড আর কোল্ড ড্রিংকসের চক্করে স্বাস্থ্যের একেবারে দফারফা হয়ে যায়। আর সেই কারণে অল্প বয়সেই প্রেসার, সুগার (Blood Sugar)। শুধু তাই নয় প্রতিদিনের এমন কিছু বদ অভ্যাস আছে যেগুলি করলে শরীর ধীরে ধীরে ইনসুলিনের প্রতি কম সাড়া দিতে থাকে, আর সেখান থেকেই বাড়ে ডায়াবিটিসের ঝুঁকি। প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ এখন ভুগছে ডায়াবিটিসে। তাই এই ভয়ংকর রোগের (Reduce Blood Sugar) হাত থেকে রক্ষা পেতে খেতে হবে ৪টি ঘরোয়া উপাদান।
চিন্তার অন্যতম কারণ ডায়াবিটিস
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ডায়াবিটিস ধরা পড়লেই বেশ কিছু বিধিনিষেধ চলে আসে প্রাত্যহিক জীবনে। কারণ রক্তে শর্করার মাত্রা যদি এক বার বিপদসীমা পেরিয়ে যায়, তা হলে কিডনিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই সচেতন এবং সাবধান হওয়া বেশ জরুরি। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে মেনে অবশ্যই ওষুধ খাওয়া শুরু তো করতেই হবে আর সেই সঙ্গে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে কয়েকটি ঘরোয়া টোটকার উপরেও ভরসা রাখতে হবে। এছাড়াও কিছু বদ অভ্যাস পরিবর্তন হবে। তাই আর দেরি না করে ঝটপট জেনে নেওয়া যাক টোটকাগুলি।
আমলকি ও আদার গুণ
রক্তে শর্করার মাত্রা কমানোর জন্য অন্যতম ঘরোয়া পদ্ধতি হল আমলকির রস। কারণ একটি ছোট্ট আমলকিতে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা ডায়াবেটিকস রোগীদের শরীর সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। এছাড়াও ডায়াবিটিসে সুস্থ থাকতে হলে চোখ বন্ধ করে ভরসা করতে পারেন আদাকে। কারণ আদা শর্করার মাত্রা কমায় এবং ইনসুলিনের ভারসাম্য বজায় রাখে। এর জন্য শুধু শুধু আদা যেমন খাওয়া যাবে, ঠিক তেমনই আবার আদা-চাও খাওয়া যাবে। বেশ সুফল পাওয়া যাবে।
জাম ও অ্যাপল সাইডার ভিনিগার
আমরা সকলেই জানি ফল শরীর স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ভালো। কিন্তু সমস্যা হল ডায়াবিটিস হলে সব ফল খাওয়া যায় না। কারণ কিছু কিছু ফলে ‘গ্লাইসেমিক ইনডেক্স’ অনেক বেশি থাকে। তবে সেক্ষেত্রে জাম হল এই রোগের ম্যাজিক ম্যান। কারণ জামের বীজের গুঁড়ো জলে গুলে খালি পেটে খেলে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে শর্করার মাত্রা। পাশাপাশি রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে যদি দু’চামচ অ্যাপল সাইডার ভিনিগার খেয়ে থাকেন, তা হলেও শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
আরও পড়ুন: যেতে হবে না Mio Amore, বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন সুস্বাদু চিকেন প্যাটিস, শিখুন পদ্ধতি
তবে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে বেশ কিছু বদ অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে রোগীদের। আর সেগুলি হল খালি পেটে কালো কফি খাওয়া, খালি পেটে দীর্ঘ ক্ষণ এবং তীব্র ব্যায়াম করা, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করা এবং সকালে বিস্কুট, সাদা পাউরুটি বা প্যাকেটজাত খাবার খাওয়া। মনে রাখতে হবে এগুলি শরীরের ক্ষেত্রে উপকারের বদলে বেশি করে অপকার করে। তাই সাবধানে থাকুন এবং অবশ্যই শরীর স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিন।












