সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বকেয়া মিললেও, বাজেটে ঘোষণা মতো মেলেনি মহার্ঘ্য ভাতা (Dearness allowance)। এদিকে ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার দিনক্ষণ এগিয়ে আসছে। রাজনৈতিক দলগুলির প্রস্তুতি তুঙ্গে রয়েছে। এদিকে পিছিয়ে নেই শাসক দলও। তবে এসবের মাঝেই, বলা ভালো নির্বাচনে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াল ডিএ ইস্যু। চরম হুঁশিয়ারি দিলেন বাংলার সরকারি কর্মীরা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, সরকারি কর্মীদের নয়া আওয়াজ কি নির্বাচন ও ফলাফলের ওপর প্রভাব বিস্তার করবে? চলুন জেনে নেবেন।
DA না পেয়ে রেগে কাঁই শিক্ষকরা
এতদিন সকলের প্রশ্ন ছিল, কবে মিলবে বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা। যদিও ভোটের আবহে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া টাকা সিংহভাগ কর্মীর অ্যাকাউন্টে দিয়ে দিয়েছে। দুই কিস্তিতে এই টাকা দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। প্রথম কিস্তি দেওয়া হয়েছে, পরবর্তী কিস্তি আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দেওয়া হবে বলে খবর। তবে এখন নতুন ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে, বাজেটে ঘোষণা মতো ৪ শতাংশ ডিএ কবে দেওয়া হবে।
এমনিতে এতদিন সরকারি কর্মীরা ১৮ শতাংশ হারে মহার্ঘ্য ভাতা পাচ্ছিলেন। তবে এই ঘোষণা মতো ডিএ বেড়ে ২২ শতাংশ হওয়ার কথা এবং তা পাওয়ার কথা। কিন্তু কোথায় টাকা? ফলে এই টাকা না পেয়ে নতুন করে ক্ষোভে ফুঁসতে শুরু করেছেন শিক্ষকরা (Teacher)। তাঁদের নয়া হুঁশিয়ারি, নির্বাচনে দেখে নেবেন সকলে। আর বঞ্চনার অভিযোগ তুলে হুমকি দিয়েছেন শিক্ষকরা।
প্রকাশ্যে বিস্ফোরক অভিযোগ
শিক্ষকদের অভিযোগ, একে তো ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া টাকা তাঁরা পাননি। অন্যদিকে বাজেটে ঘোষণা অনুযায়ী, বাড়তি ৪ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতাও তাঁরা পাননি। এমনকি হেলথ স্কিম নিয়ে বঞ্চনার শিকার হচ্ছে, সেই অভিযোগও তুলেছেন অনেকে বলে খবর। বঞ্চিতদের স্কেলে সবথেকে এগিয়ে শিক্ষকরা বলে দাবি করেছেন। ফলে এ সব বঞ্চনার প্রভাব ভোটে পড়বে বলে জানিয়েছেন সকলে।
এই প্রসঙ্গে অ্যাডভান্স়ড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেস- এর সাধারণ সম্পাদক চন্দন মাইতি বড় মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সমস্ত সরকারি কাজ আমাদের দিয়ে করানো হচ্ছে। কিন্তু হেলথ স্কিম হোক বা মহার্ঘ ভাতা, সবেতেই আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। এ ভাবে চূড়ান্ত বঞ্চনার শিকার হচ্ছে গোটা শিক্ষক সমাজ।’ শিক্ষকদের মনে প্রশ্ন উঠেছে সরকারের তহবিলে কি যথেষ্ট অর্থ নেই? নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজিত দাস বলেন, ‘বিধানসভায় ঘোষণার প্রায় দু’ মাস পরেও এই বিষয়ে কোনও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হল না, এটা খুবই দুর্ভাগ্যের। অতীতে এ রকম কখনও হয়নি।’
আরও পড়ুনঃ হাওড়া, বালিতে বন্ধ থাকবে জল পরিষেবা! কবে, কতক্ষণ? বিজ্ঞপ্তি পুরসভার
অপরদিকে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল জানান, ‘রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বাজেটের দিন ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেছিলেন এবং তা এপ্রিল থেকেই লাগু হবে বলেছিলেন। কিন্তু দেড় মাস অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরও এখনও নবান্ন থেকে অর্ডার বের হয়নি। লক্ষ লক্ষ শিক্ষক, কর্মচারী সরকারের পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন। এ মাসের বেতন বিল সাবমিট করেননি এখনও। আশা করি আজ-কালের মধ্যে অর্ডার বেরিয়ে যাবে। সরকারকে এটা মনে রাখতে হবে আর মাত্র সাত দিন পরেই পোস্টাল ব্যালটে ভোট। সেখানে এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে পারে।’












