সৌভিক মুখার্জী, নয়াদিল্লি: বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই বজায় ছিল (Bangladesh–India Relations)। তবে ২০২৪ এ শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে ঠেকে। ইউনুস জামানায় নয়াদিল্লির সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘ কাঁটাছেঁড়া হয়। তবে গত বছর তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর সেই সম্পর্কে আবারও উন্নতি হতে চলেছে। এরই মধ্যে বড়সড় বার্তা দিল ঢাকা। ভারত থেকে রেলওয়ের (Indian Railways) ২০০টি অত্যাধুনিক ব্রডগেজ কোচ বাংলাদেশে আসতে চলেহে বলে ঘোষণা করলেন সে দেশের সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটিয়ে আবারও নতুন চুক্তি
প্রসঙ্গত, গত বছর বিএনপির চেয়ারম্যান তথা খালেদা জিয়া পুত্র তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক গঠন করার তাগিদে একাধিক ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান তিনদিনের জন্য ভারত সফরে এসেছিলেন। আর সেখানেই রেল পরিকাঠামো নিয়ে বড় অগ্রগতির খবর মিলল। বৃহস্পতিবার ওপার বাংলার জাতীয় সংসদে একাধিক সাংসদ সদস্যের প্রশ্নের উত্তরে শেখ রবিউল আলম জানান, ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কের অর্থায়নে ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ কোচ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ২০২৬ এর জুন থেকে ২০২৭ এর ডিসেম্বরের মধ্যেই কোচগুলি ধাপে ধাপে বাংলাদেশের রেলের সঙ্গে যুক্ত হবে। আর এই কোচগুলি হাতে পাওয়ার পর যাত্রী চাহিদার ভিত্তিতে নতুন নতুন রুটে ট্রেন চালানো হবে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির জন্য ১৫টি আন্তঃনগর বা ইন্টারসিটি ট্রেন চলছে। তবে ভারত থেকে নতুন কোচগুলি আসা শুরু হলে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ট্রেনের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলেই দাবি করছেন সে দেশের রেলমন্ত্রী। যার ফলে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যাতায়াত এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলেই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।
#Bangladesh | Bangladesh to import 200 broad-gauge coaches from India by 2027
The project, financed by the European Investment Bank, is expected to see the coaches added to the Bangladesh Railway fleet between June 2026 and December 2027.
The government is also planning further… pic.twitter.com/hhp53tgcTJ
— DD News (@DDNewslive) April 9, 2026
আরও পড়ুন: ভাবাদিঘিতে স্কুল ভেঙে তৈরি হচ্ছে ব্রিজ, তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেল প্রকল্পে বড় আপডেট
বলে রাখি, বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ইঞ্জিন, কোচ এবং কর্মীর অভাবে বেশ কিছু ট্রেন চলাচল স্থগিত রয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের ১৯টি লোকাল এবং ২১টি মেইল ট্রেনসহ মোট ৪০টি ট্রেন এখন বন্ধ। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সক্ষমতা না থাকার কারণে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮টি মালবাহী ট্রেনকে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। সেই সংকট কাটাতেই সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। ওপার বাংলার সরকার জানিয়েছে, ২৬০টি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ এবং ৪৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের কাজ চলছে। আর চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করার কাজ প্রক্রিয়াধীন। এমনকি মালামাল পরিবহনের মাধ্যমে রেলের রাজস্ব বৃদ্ধির উপরেও জোর দিচ্ছে সরকার। এক কথায়, এই চুক্তির ফলে যে দুই দেশের সম্পর্ক আরও উন্নত হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।












