LPG নিয়ে ৩০ দিনের ডেডলাইন বেঁধে দিল কেন্দ্রীয় সরকার!

Published:

LPG

সহেলি মিত্র, কলকাতা: বিশ্বজুড়ে গ্যাস সংকটের মাঝে আবারও একবার ময়দানে নামল কেন্দ্রীয় সরকার। বিশেষ করে এলপিজি (Liquefied petroleum gas) নিয়ে যখন চারিদিকে হাহাকার পড়ে গিয়েছে, ঠিক তখনই বিশেষ নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রের মোদী সরকার। ৩০ দিনের একটা ডেডলাইন বেঁধে দিল সরকার। আপনিও যদি LPG গ্যাস ব্যবহার করে থাকেন তাহলে জেনে রাখুন সরকারের নতুন নির্দেশিকা সম্পর্কে।

LPG নিয়ে নয়া নির্দেশিকা জারি কেন্দ্রের

পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল সংস্থাগুলিকে (OMC) কমপক্ষে ৩০ দিনের জন্য রান্নার গ্যাসের (LPG) একটি সংরক্ষিত মজুত বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। এই প্রসঙ্গে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা বলেছেন, সরকার তেল ও গ্যাসের একটি কৌশলগত মজুদ তৈরির জন্য কাজ করছে। কোম্পানিগুলোকে এলপিজি ও অপরিশোধিত তেল উভয়েরই অতিরিক্ত মজুত রাখার জন্য বলা হয়েছে।

দেশে এলপিজির বর্তমান অবস্থা কী?

সরকারি কর্তাদের মতে, নানা পরিবর্তনের কারণে দেশে এলপিজির বর্তমান চাহিদা ৮০,০০০ মেট্রিক টন থেকে কমে ৭২,০০০ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। ভারতের শোধনাগারগুলো বর্তমানে প্রতিদিন ৫২,০০০ মেট্রিক টন এলপিজি উৎপাদন করছে এবং অবশিষ্ট চাহিদা মেটাতে শোধনাগারগুলোর আরও উন্নতি করা হচ্ছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ফেব্রুয়ারিতে ভারত যে অপরিশোধিত তেল ব্যারেল প্রতি ৬৯.০১ ডলারে কিনছিল, মে মাসে তা বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৬.৮৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এই ব্যাপক বৃদ্ধির কারণে ভারতীয় তেল কোম্পানিগুলোর প্রতিদিন প্রায় ৫৫০ কোটি টাকার বিশাল লোকসান হচ্ছে। এই কারণেই গত ১০ দিনে চতুর্থবারের মতো জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ এই বৃদ্ধিতে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ২.৬১ টাকা এবং ডিজেলের দাম ২.৭১ টাকা বেড়েছে। সব মিলিয়ে, গত কয়েকদিনে তেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ৭.৫ টাকা বেড়েছে। সবথেকে বড় কথা, এই সংকটের সময়ে হরমুজ প্রণালীতে ১৩টি ভারতীয় জাহাজ আটকে পড়েছে।

আরও পড়ুনঃ উত্তেজনা সত্ত্বেও কীভাবে অবাধে হরমুজ পার করছে ভারতের জাহাজ? ফাঁস সব

সমুদ্রপথে ১৩টি ভারতীয় জাহাজ আটকে পড়ার ঘটনা থেকেই উত্তেজনার মাত্রা অনুমান করা যায়। নৌপরিবহণ মন্ত্রকের কর্মকর্তা ওপেশ শর্মা জানিয়েছেন যে, এই আটকে পড়া জাহাজগুলোর মধ্যে একটি এলপিজি ক্যারিয়ার, পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজ রয়েছে। সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই জাহাজগুলোকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে।