বিফল ইসলামাবাদে ইরান-আমেরিকা বৈঠক, ভয়াবহ যুদ্ধের ইঙ্গিত মার্কিন উপরাষ্ট্রপতির

Published:

Iran–United States War

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দীর্ঘ ১৫ ঘণ্টা আলোচনার পর অবশেষে কোনও রকম রফাসূত্র ছাড়াই আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষ হয়েছে। ইসলামাবাদে (Islamabad) আয়োজিত এই ম্যারাথন আলোচনার পর মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট জানালেন, দুই পক্ষ কোনও সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি। এমনকি তিনি এই ফলাফলকে বিশ্বের কাছে সবথেকে ‘দুঃসংবাদ’ হিসেবে অভিহিত করলেও ইরানের জন্য আরও ভয়াবহ বলে ইঙ্গিত দিলেন। তাহলে কি এবার যুদ্ধ মারাত্মক আকার ধারণ করবে (Iran–United States War)?

ঠিক কী ঘটেছিল আলোচনা সভায়?

ইসলামাবাদে ইরানি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনার পর জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, এটি একটি খারাপ খবর যে আমরা কোনও রকম সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারিনি। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমাদের মধ্যে বাক্য বিনিময় হয়েছে। তবে চূড়ান্ত কোনও রকম চুক্তি সম্ভব হয়নি। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে যে, এই ব্যর্থতা আমেরিকার থেকে ইরানকে অনেক বেশি দুঃসময়ের মধ্যে ফেলতে পারে।

এদিকে বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি উঠে এসেছে। ভ্যান্সের সংযোজন, আমাদের খুব সাধারণ এবং স্পষ্ট দাবি ছিল। আমাদের প্রধান প্রতিশ্রুতি দরকার ছিল যে, ইরান কোনওভাবেই যেন পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করে, এবং এমন কোনও পথ অবলম্বন করবে না যাতে তারা দ্রুত এই মারণাস্ত্র তৈরি করতে পারে।

এদিকে দুই পক্ষের দাবিগুলির মধ্যে আকাশপাতাল পার্থক্য থাকার কারণে সেরকম কোনও মধ্যপন্থা খুঁজে পাওয়া অসম্ভব হয়ে ওঠে। ইরানের দেওয়া শর্তের মধ্যে ছিল—

  • ইরানের উপর আরোপিত সমস্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সরাতে হবে।
  • কেবলমাত্র ইরান নয়, বরং লেবানন, ইরাক এবং ইয়েমেনেও হামলা বন্ধ করতে হবে।
  • আমেরিকায় ফ্রিজ হয়ে থাকা ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সম্পদ দ্রুত রিলিজ করে দিতে হবে।
  • হরমুজ প্রণালীর উপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নিতে হবে। আর সেখান দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ট্রানজিট ফি নেওয়ার অধিকার দিতে হবে।

অন্যদিকে আমেরিকার দাবিগুলির মধ্যে ছিল—

  • কোনও শর্ত ছাড়াই বিশ্ব তেলের বাজারের স্বার্থে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে।
  • যাচাইযোগ্য পদ্ধতিতে পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
  • ব্যালেস্টিক মিসাইল তৈরি বন্ধ করতে হবে, আর আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ এবং অস্ত্র যোগান দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
  • ইরানে আটক মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে মুক্তি প্রদান করতে হবে।

আরও পড়ুন: পয়লা বৈশাখের আগে সোনা, রুপোর দামে বড় পরিবর্তন! বাড়ল না কমল? জানুন রেট

তবে ইরান এবং আমেরিকার এই আলোচনা ব্যহত যাওয়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি যে আরও জটিল হবে এমনটাই মত প্রকাশ করছে বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের অনড় অবস্থান বিশ্ব বাজারে দামকে আবারও অস্থিরতার মধ্যে ফেলবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার পরিস্থিতি কোনদিকে গিয়ে দাঁড়ায়।