১৬ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে কার্যকর মহিলা সংরক্ষণ আইন, বিজ্ঞপ্তি কেন্দ্রের

Published:

Women Reservation Act 2023

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এইমুহুর্তে মহিলা সংরক্ষণ এবং লোকসভায় আসনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে তর্ক বিতর্ক লেগেই রয়েছে। আর পরিস্থিতির মধ্যেই দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হল ঐতিহাসিক মহিলা সংরক্ষণ আইন বা ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ (Women Reservation Act 2023)। জানা গিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ থেকেই এই আইনটি কার্যকর হিসেবে গণ্য করা হবে। যা লোকসভা (Lok Sabha) ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন রাজনীতিবিদরা।

নারী সংরক্ষণ আইন ২০২৩

রিপোর্ট মোতাবেক, সংসদে তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে তিনটি বিল পাশ করাতে চাইছে কেন্দ্র। প্রথমটি হল লোকসভা এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভায় মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম বিল। দ্বিতীয়টি হল লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিল এবং তৃতীয়টি হল কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল। তাই গতকাল, বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনটি বিলই লোকসভায় পেশ করার পরে দিনভর বিতর্ক এবং বাজ পড়ার বিতণ্ডা শুরু হয়েছিল। সবশেষে গভীর রাতে দেশজুড়ে কার্যকর হল নারী সংরক্ষণ আইন, বিজ্ঞপ্তি জারি কেন্দ্রের।

কার্যকর হল ঐতিহাসিক মহিলা সংরক্ষণ আইন

২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল পাশ হয়েছিল সংসদে। বিলে উল্লেখিত ছিল, মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। সেখানে আরও বলা হয়েছিল, জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তারপর ওই আসনের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হবে মহিলাদের জন্য। কিন্তু এখন কেন্দ্র আর জনগণনার অপেক্ষা করতে চাইছে না। মোদি সরকার চাইছে, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করে দিতে। সেই পুনর্বিন্যাসের ভিত্তিতেই মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষিত করা হবে। অবশেষে দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হল ঐতিহাসিক মহিলা সংরক্ষণ আইন বা ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কেন্দ্রের

আইন মন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সংবিধানের (১০৬তম সংশোধন) আইন ২০২৩-এর ১ নম্বর ধারার (২) উপধারা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল দিনটিকে এই আইনের সংস্থানগুলি কার্যকর করার তারিখ হিসেবে ধার্য করছে। তবে আইনটি আজ থেকে কার্যকর হলেও, এর বাস্তব প্রয়োগে এখনও কিছুটা সময় লাগবে। এর জন্য দুটি বড় ধাপ পার করতে হবে, একটি হল জনগণনা: ২০২৭ সালের পরবর্তী জনগণনা সম্পন্ন হতে হবে। এবং অপরটি হল আসন বিন্যাস যেখানে জনগণনার ভিত্তিতে নতুন করে আসন বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

আরও পড়ুন: ভোটের আগে বাংলায় ৪১৭ কোটি বাজেয়াপ্ত! উদ্ধার মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র

বিরোধীরা বিতর্কের মাঝেই প্রশ্ন তুলছে যে কেন গত বছরের (২০২৩) পুরনো আইনটিকে হঠাৎ ১৬ এপ্রিল থেকে কার্যকর করার বিজ্ঞপ্তি জারি করা হল। সেই নিয়ে সরকারি আধিকারিকদের একাংশ জানিয়েছেন, কিছু ‘প্রযুক্তিগত’ কারণ এবং কিছু ‘কারিগরি’ দিক বজায় রাখতেই এই সময়টিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান লোকসভা বা বিধানসভাগুলিতে এই সংরক্ষণ এখনই কার্যকর করা সম্ভব নয়।